বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরো গভীর করার লক্ষ্যে আজ শনিবার (১৬ মে) গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নেপাল উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী (Ghanshyam Bhandari) এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি দু’দেশের জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। ভৌগোলিক সীমারেখা আলাদা হলেও আমাদের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আতিথেয়তার চেতনা আমাদেরকে এক অভিন্ন সূত্রে গেঁথেছে।
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমকালীন বিশ্বে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার নানা বাস্তবতার বিপরীতে সংস্কৃতিই হতে পারে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক সংযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বৈচিত্র্য কখনো বিভেদের কারণ নয়, বরং তা সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা এবং ঐক্যের এক অনন্য শক্তি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন দু’দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মৈত্রীকে আরো সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নেপালের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নৈসর্গিক ভূপ্রকৃতির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সবসময় নেপালের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করে। আগামী দিনে সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, যুব বিনিময় এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির মতো ক্ষেত্রগুলোতে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের জন্য রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী। একই সঙ্গে উৎসব সফল করতে সংশ্লিষ্ট দু’দেশের শিল্পী, পারফর্মার, শেফ ও আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ নেপালের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্প, সংগীত, নৃত্য ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা দু’দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্বের আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উৎসবের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।
আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল




















