প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আ’লীগের প্যানেল আউট, প্রথম দিনে ১৭৭১ ভোট কাস্ট
সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পৃথক ৩ প্যানেল
আবুল কাশেম:

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপিম কোর্ট বার) নির্বাচনে জোর করে একচেটিয়ে সিলমেরে দলীয় সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থীকে বিজয়ী করা হতো। তবে এবার এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের কোন প্যানেল প্রতি দ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছ না। ফলে বিএনপি,জামায়াত এবং এনসিপির নেতৃত্বে পৃথক ৩টি প্যানেল ভোটের মাঠে রয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী এই নির্বাচনে টানা দুইদিন ভোট গ্রহণ করা হয়।
আজ বুধবার (১৩ মে) প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১,৭৭১ আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। একইভাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সাব কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুপ্রিম কোট বারের এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন। মোট ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচনে ভোটের মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।
তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে আওয়ামীপন্থিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তারা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সেগুলো বাতিল করা হয়।
বিএনপি প্যানেল:
বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহ-সভাপতি পদে মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে জিয়াউর রহমান, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, কবির হোসেন, টিপু সুলতান, জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া এবং ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতের প্যানেল:
জামায়াতে সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, দুটি সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, দুটি সহ-সম্পাদক পদে তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভুইয়া প্রার্থী হয়েছেন। সাতটি সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এনসিপির প্যানেল :
এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছেন। এর মধ্যে সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।
এই ৩ প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ আর সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, আবু ইয়াহিয়া দুলাল, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান ভোটে লড়ছেন। সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস।
আ. দৈ./কাশেম




















