ভিসির হোয়াটস অ্যাপ হ্যাক প্রতারণায় গ্রেপ্তার ১
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গতকাল সোমবার (৪ মে) রাতে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঝিনাইদহ সদর থানার নৃসিংহপুর গ্রামের একটি তেল পাম্পের বিপরীতে চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রিহাদ হাসান (২৩)। তিনি ঝিনাইদহ সদরের গড়িয়াল গ্রামের আবুল কালাম আজাদের সন্তান। গ্রেপ্তারকালে রিহাদের মোবাইল ঘেটে অবৈধ অনলাইন জুয়ার অনেকগুলো অ্যাপসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি জুয়ার টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ দেয়।
একপর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের দেয়া বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মামলার তদন্তে সিআইডির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মোবাইল ফোনটি ঘেটে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছেন, তিনি ওই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলতেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ জুয়ায় ব্যয় করতেন। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না সে সংক্রান্ত তথ্যের জন্য গ্রেপ্তার রিহাদকে রিমান্ডের আবেদন করবে পুলিশ।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিপিসি।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু




















