
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ বা টোল না দেওয়ার জন্য জাহাজ মালিকদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) জানিয়েছে, এমন কোনো লেনদেন হলে তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংস্থাটি বলছে, অর্থ প্রদানের ধরন যাই হোক—ডলার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনানুষ্ঠানিক বিনিময় কিংবা দান হিসেবে—সব ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এমনকি ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। ধারণা করা হয়, সমুদ্রপথে সরবরাহকৃত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপত্তার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ ধরনের অর্থ পরিশোধ ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটানোর শামিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে এমন কিছু ঘটনার বিষয়ে অবগত, যেখানে এই রুট পার হতে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ একই সময়ে ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট—ইরানকে আর্থিক সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি তেলবাহী জাহাজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দিতে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
আ.দৈ./ এম.এস




















