ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ দাবিতে বিক্ষোভ, উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ ঘোষিত নববর্ষ উদযাপন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষিকা রুনা'র হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে ও মেইনগেটে তালা ঝুলিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-সহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরে পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপস্থিত থেকে দাবির বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি পেশ করেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।
তবে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে প্রশাসন ভবনে অবরুদ্ধ এক ব্যক্তির অসদাচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। এসময় তারা শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ছিড়ে ফেলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটে আবারও তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করেন।
বিভাগের শিক্ষার্থী জোর্শেদ করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে আমাদের বিভাগকে যাওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু আমাদের আসমা সাদিয়া রুনা ম্যামের হত্যার ৪২ দিন পার হওয়ার পরেও আমরা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এজন্য আমরা বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানে না যেয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছি।
তিনি আরও বলেন, তালা দিলে ভিসি স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকেরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে বিশ্বাস করতে না পারায় ভিসি স্যাররা ডিপার্টমেন্টে এসেছিল। আমাদের সবার সাথে বসেছে। আমরা ভিসি স্যারের কাছে ফেস টু ফেস আমরা অনেক কথাবার্তা বলেছি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামীকাল থেকে খুনি ফজলুর রিমান্ড কার্যকর হবে।
এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির পক্ষ থেকে রুনার পরিবারকে ডাকা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে এসে সকল শিক্ষকদেরকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। দুইজন আসামি শিক্ষক তাদেরকে নেয়ার জন্য আমি রেজিস্টার এর মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপারের নিকট নোটিশ দিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসামিদের যেখানে বাসস্থান সেখানে প্রশাসনদেরকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য সহযোগী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমি নিজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে যোগাযোগ করেছি বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকের জন্য।
আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আর আগামী সিন্ডিকেটে তোমাদের ম্যামের নামে একটি হলের নামকরণ করার বিষয়ে কথা বলবো। কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন করার পর তারা আবেদন করলে বিষয়টা বিবেচনা করা হবে।
এ সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইবি থানার ওসি মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আসামিদের দুর্নীতি বিষয়ে আর আমরা ক্রিমিনাল অফেন্স নিয়ে তদন্ত করছি। ফজলুর রহমান ডাক্তারের কাছে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে। এখন আদালতের ভাষ্য- তাকে ওরালি কথা বলতে হবে। মানে কথার মাধ্যমে তার স্টেটমেন্ট নেবে। বর্তমানে সে জেল হাজতে আছে। আমরা ইতোমধ্যে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছি। সেই রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। আগামী কালকে তার রিমান্ড শুনানি।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের ঠিকানায় একাধিকবার ড্রাইভ দিছি। তারা সেখানে নাই এবং তাদের যে নাম্বারগুলো সেগুলো বন্ধ পেয়েছি। তারা যেন বহির্গমন না করতে পারে ইতোমধ্যে সেখানে প্রত্যেকটা ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়ে রেখেছি। রিমান্ডের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হলেও বিভাগ সংস্কারের বিষয় উপাচার্যকে সরজমিনে পরিদর্শনের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি-সহ ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভাগে উপস্থিত হন এবং আলোচনা করেন। কোষাধ্যক্ষ স্যার আগামী সপ্তাহে ক্যাম্পাসে এসে ডিপার্টমেন্ট পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
আ. দৈ./কাশেম




















