রাজধানীর শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতাল ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবি
ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি মামলায় যুবদলের ৪ নেতা রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক মানবীয় গুনাবলি সম্পন্ন ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজি এবং যুবদল নেতারা হানা দিয়ে নানা ভয়ভীতি ও হুমকি সুনিদিষ্ট অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার গ্রেপ্তার ৪ জনের বিরুদ্ধে ৪দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদনে ওপর শুনানি শেষে ৪দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন;ফারুক হোসেন সুমন (৪২), লিটন মিয়া (৩৮), ফালান মিয়া (৪২) ও মো. রুবে (৪২)।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ছাবির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের শেরেবাংলা নগর থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী আবু হানিফ (৩৯), যিনি শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত, দীর্ঘদিন ধরে ১ নম্বর আসামি মঈন উদ্দিনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মুখে ছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মঈন উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন বাদীর বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তারা হুমকি ও উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। পরিস্থিতি খারাপের আশঙ্কায় বাদী তার ভাইকে ডেকে নেন।
পরে অভিযুক্তরা আরও লোকজন জড়ো করে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল নিয়ে সিকেডি হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালায়। এমনকি হাসপাতালের মালিককে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলার মূল আসামি মঈন উদ্দিন এখনো পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য গোপন করছেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।
আদালত শুনানি শেষে আসামিদের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শল্যচিকিৎসক কামরুল ইসলাম সীমিত খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। করোনা মহামারির সময় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে যখন অস্ত্রোপচার প্রায় বন্ধ ছিল তখনো তিনি কিডনি প্রতিস্থাপন বন্ধ রাখেননি। তিনি এ পর্যন্ত হাজারের বেশি রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন।
আ. দৈ./কাশেম




















