ইরানের স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের প্রতিনিধিদল এখন পাকিস্তানে
ডেস্ক নিউজ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। এই আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় মূল আলোচকদের পাশাপাশি কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ কমিটির ২৬ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ২৩ জন গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রতিনিধিদলটি এরই মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দফার একটি প্রস্তাব। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ‘১০ দফা’ পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘হয় এসপার, নয় ওসপার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানের ভেতরের ছবিতে দেখা গেছে, আসনগুলোতে মিনাব স্কুল হামলায় নিহতদের ছবি ও তাদের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। ‘মিনাব ১৬৮’ নামের এ বিমানটি মূলত ওই হামলায় নিহত ১৬৮ জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাজানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপে প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে দু’জন বলেছেন, তারা এই যুদ্ধের অবসান দেখতে চান। তাদের মতে, যুদ্ধটি অনেক দূর গড়িয়েছে। তারা জ্বালানির দাম এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের কারণে প্রভাবিত হওয়া বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ে অভিযোগ করছেন। মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়ছে এবং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে কোনো ঐক্যমত ছিল না। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্ভবত যুদ্ধ শুরু করার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর ছিলেন। কিন্তু এখন তিনিই এই সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। জেডি ভ্যান্সের ওপর ইরানীদের সাথে একটি শক্তিশালী ও জোরালো যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার জন্য ব্যাপক চাপ থাকবে, যেহেতু তিনিই প্রথম থেকে এই যুদ্ধ শুরু হতে দিতে চাননি। সূত্র : আল-জাজিরা
আ. দৈ./কাশেম




















