ফ্যাসিস্ট আমলের প্রধান বিচারপতি খায়রুলের জামিন বাতিলের শুনানি ২৬ এপ্রিল
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর,সুবিধাভোগী এবং বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের অন্যতম সহযোগি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। ৪টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ দায়ের হওয়া মামলায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্টে। পরে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ২৬ এপ্রিল।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট দিনে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া।
তিনি জানান, গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। জুলাই আন্দোলনকালে হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির অভিযোগে এসব মামলা হয়। এছাড়া, ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় জামিন পান তিনি।
এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় এ সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে আটক করে। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের মামলা। এরও আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।
একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
শেষে রুল নিষ্পত্তি করে তার জামিন মঞ্জুর করেন। ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। এরপর তিনবার তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হন।
আ. দৈ./কাশেম




















