তদন্তে রাষ্ট্রের প্রধান পিয়ন পর্যন্ত কেউ বাদ পড়বে না: চিফ প্রসিকিউটর
শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক ডিআইজি জলিলকে কারাগারে পাঠালো ট্রাইব্যুনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও জগন্যতম হত্যাকান্ডের রেকর্ড করেছে পতীত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিরীহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও এতিম ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাযজ্ঞ, অমানবিক নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে এই পাষান্ড পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আদালতকে জানানো হয়েছে,২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় আব্দুল জলিল মণ্ডল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়া তিনি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল আগামী ৫ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।
শাপলা চত্বরের এই মামলায় আব্দুল জলিল মণ্ডল ছাড়াও বর্তমানে আরও পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। কারাবন্দি আসামিরা হলেন; সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচির ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অপরদিকে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান,
বহুল আলোচিত ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত জেড়িতদের কেউ বাদ পড়বে না।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ মামলায় পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মন্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ । অতীতে যত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, তা যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যাদের নাম আসবে তাদেরকেই বিচারের আওতায় আনা হবে’।
আ. দৈ./কাশেম




















