রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী রাডার গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ৯২)
X

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে । জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত এই রাডারটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ইরানের নিখুঁত হামলায় আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি এই রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত উন্নত ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ হিসেবে কাজ করতো।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্র্যাসিস (এফডিডি)-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলা পরিচালিত হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছিল, তবে এখন রাডার ধ্বংসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Iran has destroyed a key $300 million radar system crucial to directing US missile defense batteries in the Gulf that risks further straining the region’s ability to counter future attacks, according to a US official https://t.co/NFLtgVC2wT,  - Bloomberg  (@business) March 6, 2026,

থিংকট্যাংকটির সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, যদি সত্যিই থাড রাডার লক্ষ্য করে হামলা সফল হয়ে থাকে, তাহলে এটি এখন পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিরাট ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, থাড রাডার অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য একটি কৌশলগত সম্পদ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে একটি রাডার হারানো মানে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ছিদ্র তৈরি হওয়া।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, এই ধরনের রাডার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এর ক্ষতি বড় ধরনের ধাক্কা।

থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই রাডারটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষার পুরো দায়িত্ব পড়েছে স্বল্পপাল্লার ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বর্তমানে ফুরিয়ে আসছে, যা মার্কিন বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯০ জন সেনা, ছয়টি ট্রাকভিত্তিক লঞ্চার, মোট ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ট্যাকটিক্যাল ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে যুদ্ধের শুরুতেই কাতারে স্থাপিত একটি এএন/এফপিএস–১৩২ প্রাথমিক সতর্কতা রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ জানিয়েছে।

ইরানি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম চাপের মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে লকহিড এবং আরটিএক্স-এর মতো বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে পেন্টাগন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝