জুলাই গণহত্যা কাদেরসহ ৭জনের নামে গ্রেপ্তারি
গুমের মামলায় হাসিনাসহ ১৩ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু ট্রাইব্যুনালে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছর জুলুম,অপহরণ, খুন ও গুমের অসংখ্য অমানবিক ঘটনায় অবশেষে ছাত্রজনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।একই সাথে গুমের মামলার অভিযোগ থেকে বর্তমান-সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। আগামী ১৯ জানুয়ারি অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল- ১।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এই তিনজন হলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক— মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার থাকা এই তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান এবং অভিযোগ স্বীকার করেন কি না জানতে চান। জবাবে উপস্থিত তিন সেনা কর্মকর্তা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
আর ১০ আসামি মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
এ ছাড়া পলাতক তালিকায় আরও রয়েছেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকও এই মামলার আসামি। তারাও পলাতক।
গত ৯ ডিসেম্বর শুনানি শেষে আদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ১৮ ডিসেম্বও দিন ঠিক করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, মাহিন এম রহমান, মাসুদ সালাউদ্দিন ও মো. আমির হোসেন। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে গত বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ৫টি অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই গণহত্যা কাদেরসহ ৭জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা:
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
অন্য আসামিরা হলেন- আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মোহাম্মদ আলি আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মইনুল নিখিল, সাদ্দাম, ইনান।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আগামী ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারি করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানি ও পরবর্তী আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, সকালে জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এ ফরমাল চার্জ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজি এম এইচ তামিম।
জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করা হয়েছিল বলে গত ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর।
আ. দৈ./কাশেম




















