আমরা ফিলিস্তিনি টাইমজোনে আছি, গাজা পর্যন্ত যাব: শহিদুল আলম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনি টাইমজোনে ঢুকে পড়েছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে বহন করা জাহাজটি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অনেক সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মী। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে নিজের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা জানান তিনি।
ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন, ‘আজকে আমরা ফিলিস্তিনি টাইমে এসেছি। এর আগে আগে আমরা জানতে পেরেছি গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা অন্য নৌকায় যারা ছিল তারা আলাদাভাবে গিয়েছিল তাদের সবগুলো জাহাজকে আটক করেছে। আমরা ভিন্নভাবে যাচ্ছি। আমাদের জাহাজটি সবচেয়ে বড় জাহাজ। আমাদের সাথে আরও আটটি ছোট নৌকা পারি দিয়েছিল। একটু আগেই পারি দিয়েছিল। আমরা এই মুহূর্তে নয়টি যানবাহন নিয়ে মুক্তভাবে পরাচিলিত হচ্ছি।’
গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা আটকদের বিষয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘ওদের ওপর কিছু হলেও যেন আমরা যেতে পারি, সেভাবেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল।’
শহিদুল আলম ফিলিস্তিনির সময়সীমায় পৌঁছেছেন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি টাইমজোনে এসেছি। এখনও দূরত্ব রয়েছে। আজকে আমরা ছোট নৌকাগুলোসহ পার হয়ে যাব এবং আমাদের এই জাহাজটি সবচেয়ে আগে থাকবে। বোঝাই যাচ্ছে আক্রোশটা আমাদের ওপরই পড়বে। কিন্তু আমরা একিবারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমরা গাজা পর্যন্ত যাব। কোনো বাধাই আমরা গ্রহণ করব না।’
ত্রাণ নয় ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় লড়াইয়ের জন্য যাচ্ছেন জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘সমুদ ফ্লোটিলার যে নৌকাগুলো ছিল তাদের দায়িত্ব ছিল ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার। আমরা কিন্তু ত্রাণ দেওয়ার জন্য যাচ্ছি না। একটা অবৈধ সিজকে ভাঙব সেই উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই নৌকাতে অনেক সাংবাদিক রয়েছে, ডাক্তার রয়েছে, সাথে অন্য কর্মীরাও রয়েছে। কিন্তু আমরা ত্রাণ দেওয়ার অজুহাতে যাচ্ছি না, আমরা লড়াই করতে যাচ্ছি, আমরা বৈধতার জন্য যাচ্ছি, আমরা ফিলিস্তিনিতে যাওয়ার থাকবার অধিকার রয়েছে, সেখান থেকে তথ্য পাঠানোর অধিকার রয়েছে। যত মানুষ খুন করেছে এবং যত সাংবাদিক ও ডাক্তার খুন করেছে সেটার প্রতিবাদ আমরা জানাব।’
ফ্রান্সের ১৪ জন চিকিৎসককে ইসরায়েলের সেনারা হত্যা করেছেন জানিয়ে এই আলোকচিত্রী বলেন, ‘গতকাল রাতে ফ্রান্সের ১৪ জন ডাক্তারকে খুন করা হয়েছে। আমরা দেখব ফ্রান্স সেটার কি করে। এই পর্যন্ত তারা মিষ্টি কথা বলা ছাড়া কিছু বলেনি। এখন কথার সময় পেরিয়ে গেছে। এখন লড়াইয়ের সময় এখন কাজ করার সময়, আমরা সেটাই করছি। নাগরিব হিসেবে আমরা যেটা করতে পারি, সেটা হলো এই দেশের নেতারা অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সে ক্ষেত্রে নাগরিক হিসেবে যেটা করতে পারি সেটাই করতে চাই।’
সর্বশেষ তিনি গাজাবাসীর পক্ষের লোকজনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন, আপনারাই আমাদের অনুপ্রেরণা।’




















