গাজার প্রবেশপথ বন্ধে আটকে গেলেন বাসিন্দারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজা উপত্যকার প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। শহর থেকে লোকজনকে বের হতে দেওয়া হলেও, পুনরায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো গাজার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়েছে এবং শহর ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষদের ফেরত আসতে দিচ্ছে না সৈন্যরা। শহরের দক্ষিণ দিকে রাস্তা কেটে সেখানে বালুর বস্তা ফেলে ও ট্যাঙ্ক বসিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেছে সেনারা। যারা খাদ্য সংগ্রহের জন্য বাইরে গিয়েছেন, তাদেরও ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গালান্ত বলেন, ‘গাজা শহরে পূর্ণ সামরিক অভিযান চালানোর প্রক্রিয়ায় এটাই শেষ সুযোগ। এখনই বাসিন্দারা দক্ষিণে সরে গেলে হামাস যোদ্ধাদের সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, যারা সরে যাবেন, তাদের সামরিক বাহিনী যাচাই-বাছাই করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবের কথা জানানো হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন হবে এবং ইসরায়েল উপত্যকাটি সংযুক্ত করবে না। কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, বরং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, যদি উভয় পক্ষ এই পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তাহলে যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত বন্দীদের ফিরিয়ে আনা হবে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের পর আটক গাজা থেকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ জন এবং ১৭০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল।
এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক অভিযান স্থগিত থাকবে। শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হামাস সদস্যরা সাধারণ ক্ষমা পাবেন, অন্যদের জন্য নিরাপদে অন্য দেশে যাওয়ার পথ তৈরি করা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা দেবে এবং ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা প্রবাহিত হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সহাবস্থানের লক্ষ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংলাপ সহজতর করবে।
আ.দৈ/আরএস




















