রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অ্যামিবা আক্রমণে ১৯ মৃত্যু, কীভাবে সংক্রমণ হয় জানুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ১১৯)
X

চলতি বছরে ভারতের কেরালায় প্রাইমারি অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস (Primary Amoebic Meningoencephalitis বা PAM)-এর সংক্রমণে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।  পিএএম সাধারণত নেগেলেরিয়া ফাউলেরি (Naegleria fowleri) নামের একটি ক্ষুদ্র অ্যামিবার সংক্রমণে হয়, যা প্রায়শই ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’ নামে পরিচিত। 

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভীনা জর্জের মতে, গত বছরের মতো, এ বছর কোনো ক্লাস্টার আউটব্রেক হয়নি।  যদিও এ বছর  ৬৯টি পিএএম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ক্লাস্টার নয়, একক ঘটনা…আমরা ক্লাস্টার দেখেছি, তবে ২০২৫ সালে নয়… ২০২৪ সালে।  একই পানির উৎস ব্যবহারের কারণে ক্লাস্টার ছিল…এখানে ক্লাস্টার নেই, তবে ৬৯টি কেস রয়েছে। ’

প্রাইমারি অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস (পিএএম)  কী?

কেরালা সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, প্রাইমারি অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস হলো একট ধরনের ‘অ্যামেবিক এনসেফালাইটিস’ — এটি একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রমণ, যা মিঠা পানি, হ্রদ ও নদীতে থাকা মুক্ত-জীবিত অ্যামিবার কারণে হয়।

পিএএম- সংক্রমণ মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করে,মস্তিষ্ক গুরুতরভাবে ফুলে যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয়। এটি সাধারণত সুস্থ শিশু, কিশোর ও যুবকদের মধ্যে ঘটে।

পিএএম কীভাবে সংক্রমিত হয়?

প্রাইমারি অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস সাধারণত দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সংক্রমণের ১-২ সপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। 

কেরালার স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, পিএএম দূষিত জলাশয়ে সাঁতার কাটা বা ডুব দেওয়ার পাশাপাশি সাইনাসাইটিসের চিকিৎসায় নেটি পট ব্যবহারের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।

পিএএম-এর লক্ষণ

পিএএম-এর লক্ষণগুলো ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের মতোই হয়, যেমন: মাথা ব্যথা, জ্বর, বমি এবং বমিভাব, যা রোগ শনাক্ত করা কঠিন করে। 

পিএএম-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

কেরালা স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ দ্বারা সৃষ্ট এই সংক্রমণের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

১. পিএএম  সাধারণত পূর্বে সুস্থ (ইমিউনোকম্পিটেন্ট) শিশু ও তরুণ-তরুণীদের আক্রান্ত করে।

২. এই রোগ বছরের উষ্ণ মৌসুমে এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় বেশি দেখা যায়।

৩. পিএএম রোগীদের সাধারণত সংক্রমণের ১-৯ দিনের মধ্যে উষ্ণ, মিঠা পানিতে সাঁতার কাটা, ডুব দেওয়া, গোসল করা বা খেলার ইতিহাস থাকে।

৪. কখনো কখনো রোগী ঘ্রাণ বা স্বাদ বুঝতে পারে না। 

৫. পিএএম-এর লক্ষণগুলো অধিকাংশ সময় তীব্র ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের লক্ষণের সঙ্গে আলাদা করে চেনা যায় না।

৬. এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থেকে ১-২ দিনের মধ্যে তীব্র রূপ নেয়।

৭. নিউরো-অলফ্যাক্টরি (ঘ্রাণ-স্নায়ু) পথ দিয়ে নেগেলেরিয়া ফাউলেরি দ্রুত মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।  যার ফলে অভিযোজিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায় এবং রোগ খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝