রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসপাতালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’: সাক্ষী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১৯ পিএম   (ভিজিট : ১৬৭)
X

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবাতাবিরোধী মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ইমরান। সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, পঙ্গু হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট।’

আজ সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্য দেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ইমরান।

গুলিবিদ্ধ হয়ে অচল হয়ে যাওয়া বাম পা নিয়ে সাক্ষীর ডায়াসে বসে ইমরান তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে কোটাবিরোধী যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম। ১৯ জুলাই বিজয়নগর পানির টাংকি এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিত গুলি করে। আমি গুলিবিদ্ধ হই ও সেখানে আমার দুই সহযোদ্ধা নিহত হন। আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। এরপর আমাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে কোন প্রাইভেট হাসপাতাল আমাকে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়।’ 

‘এখানে চিকিৎসকরা আমার বাম পা কেটে ফেলার কথা বলেন। আমি পা কেটে ফেলার পক্ষে ছিলাম তবে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা পা কাটার অনুমতি দেয়নি। পরে মিডফোর্ড হাসপাতাল থেকে আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের  ২৬ বা ২৭ জুলাই পঙ্গু হাসপাতালে আমাদের দেখতে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আশা উপলক্ষে আগের রাত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলতে থাকে হাসপাতালে। এজন্য আমাদের রাতে ঘুমের সুযোগও দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা এসে আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন।

‘তখন আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তখন আমি তাকে ম্যাডাম বলে সম্মোধন করলে আপা বলে ডাকতে বলেন। আমি কোথায় পড়াশোনা করি, হলে থাকি কিনা সে সম্পর্কে তিনি জানতে চান। একপর্যায়ে সে বুঝতে পারে আমরা আন্দোলনকারী। সে আমাকে আরও জিজ্ঞাসা করেন যে, তুমি কি দেখেছো পুলিশ তোমাকে গুলি করেছে? আমি বলি যে পুলিশ আমাকে গুলি করেছে। তবে পুলিশের পোশাকে কে ছিল তা আমি জানিনা। আমার পরেও উনি চার পাঁচজনের সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলেন।’

‘পরে উনি যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন হেল্প ডেস্কের কাছে গিয়ে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ অর্ডার দিয়ে যান।  যা আমি শুনতে পাই। তখন বুঝিনি তিনি এটা বলে কি বুঝিয়েছেন।’

সাক্ষ্যে ইমরান আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমার ঠিকঠাক ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছিল না। আমার পাটা পচে যাচ্ছিল। গন্ধে আশেপাশে কেউ থাকতে পারতো না। হাসপাতালে সাপ্লাই করা এন্টিবায়োটিক আমার শরীরে কাজ করছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনারও অনুমতি ছিল না। তখন আমার বাবা আমাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজের চেষ্টা করে কিন্তু আমাকে রিলিজ দেয়া হয়নি। পরে আমি বুঝতে পারি শেখ হাসিনার ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ অর্ডারের ফলে আমাকে রিলিজ দেয়া হচ্ছে না। তারা চাচ্ছিল আমার পা টা কেটে ফেলে পরবর্তীতে জেলে পাঠাতে। 

তবে গত ৫ আগস্টের পর হাসপাতালের সাধারণ বেড থেকে কেবিনে নেয়া হয়। এখন যথাযথ চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত আমার পায়ে ২৫টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমার বাম পাটা মুভমেন্ট হয় না, এটা কখোনও সুস্থ হবে না বলে জানান ইমরান।

একপর্যায়ে, সাক্ষী আব্দুল্লাহ আল ইমরান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালকে বলেন, আমার এই অবস্থার জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজি দায়ী। কারণ তারাই গুলির নির্দেশ দেয় সে কারণে পুলিশ গুলি করে। 

এই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর তাকে জেরা করা হয়। জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

আজ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম শুনানি করেন। একসময় অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

গতকাল এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর ট্র্যাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দেন খোকন চন্দ্র বর্মন। তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় তার সামনে সংঘটিত হতাহতের ঘটনা ও গুলিতে নিজের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে গতকাল তাকে জেরা করা শেষ হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝