শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Ajker Dainik

বইমেলার পর্দা নামছে আজঃ চাহিদার শীর্ষে হুমায়ুন আহমেদ

আজকের দৈনিক | আব্দুর রউফ

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম

বইমেলার পর্দা নামছে আজঃ চাহিদার শীর্ষে হুমায়ুন আহমেদ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা । ছবি-সংগৃহীত

'পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবণ মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না। কোনো মানে হয়...'


নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের এই লেখাটিতে বোঝা যায় তিনি আক্ষেপ করে বলছেন, একদিন তাঁর মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে কিন্তু এতেও পৃথিবী তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। এর কোন মানে হয় না। তাই তো তিনি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করে রেখে গেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় যেভাবে তিনি আলোর দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন, মৃত্যুর প্রায় ১যুগ হতে চলছে, তবুও যেনো তিনি স্বমহিমায় রয়েছেন অমর। প্রতিবছর তাঁর লিখা অসংখ্য বই সর্বোচ্চ পরিমাণে বিক্রি হয়। এবারের বইমেলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। বাঙালি পাঠকরা এখনো খুঁজে বেড়ান তাদের প্রিয় হুমায়ুন আহমেদকে। আবার কেউ কেউ রয়েছেন যারা লেখক বলতে চেনেন কেবল হুমায়ুন আহমেদকেই।


গতকাল শুক্রবার বইমেলার ৩০ তম দিনেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র লক্ষ করা যায়।


অন্যপ্রকাশ, কাকলী, অনন্যা, অবসর, মাওলা ব্রাদার্স, অন্বেষাসহ বেশ কিছু প্রকাশনীতে নতুন বই এলেও বহু বছর ধরে বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের বই। এসব স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোও সাজানো হয় হুমায়ুন আহমেদকে কেন্দ্র করেই। স্টলগুলোতে যে দিকে হুমায়ূনের বই রাখা, পাঠকদের ভীড় যেন সেদিকেই বেশি।


কাকলী প্রকাশনীর প্রকাশক এ কে নাছির আহমেদ বলেন, অন্যবারের মতো এবারও বইপ্রেমী-পাঠকদের চাহিদার শীর্ষে হুমায়ুন আহমেদের বই। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বই যেমন এখনো পাঠক খুঁজে ঠিক তেমনই হুমায়ুনের আহমেদের বইও পাঠক খুঁজে খুঁজে কিনছে। এর পেছনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঠকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা, সহজ ভাষায় লিখতে পারার গুণ অন্যতম।


অনন্যা প্রকাশনীতে হুমায়ুন আহমেদের বই সংগ্রহ করছিলেন সুলতানা শারমিন। তিনি বলেন, অন্যান্য লেখকের বইও পড়া হয়, তবে হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলো সহজ ও সুখপাঠ্য। তার চরিত্রগুলোকে দিয়ে তিনি অকপটে কথা বলিয়ে নিয়েছেন। আর গল্পগুলো যেন মনে হয় আমাদের মধ্যবিত্তদের যাপিত জীবনের গল্প। আমরা খুব সহজে তার লেখার সাথে রিলেট করতে পারি।


অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে হুমায়ুন আহমেদের প্রায় ১১৬টি বই বেরিয়েছে। তাই হুমায়ুন আহমেদের বই কেনা উপলক্ষ্যে তাদের প্যাভিলিয়নটিতে পাঠকের ভিড় লেগে থাকে সবসময়। অন্যপ্রকাশের ইশরাত মৌ আজকের দৈনিককে জানান, হুমায়ুন আহমেদের সব বই'ই অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। বৃদ্ধ থেকে তরুণ সকলই হুমায়ুন আহমেদের বই কিনছে। অনেকের হয়তো হুমায়ুন আহমেদের সব বই পড়া শেষ কিন্তু সংগ্রহে নেই, তারাও সংগ্রহের জন্য কিনছে। এর মধ্যে মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল, বাদশাহ নামদার, বৃষ্টিবিলাসসহ কিছু বইয়ের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে বেশি।


হুমায়ুন আহমেদের ২৭টি বই প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী। প্রকাশনীটির প্রকাশক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, হুমায়ুন আহমেদের নতুন কোন বই প্রকাশিত না হলেও আগের মতোই রয়েছে বই বিক্রি। বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের কাছে হুমায়ুনের আবেদন একটুও কমেনি। এর একটা কারণ হতে পারে, হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রগুলো। হিমু, শুভ্র, মিসির আলী যেন আমাদের যাপিত জীবন থেকেই নেওয়া।


অমর একুশে বইমেলার শেষদিন আজ। আগামীকাল থেকে আর বিস্তীর্ণ এ প্রান্তরে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসবেন না দোকানিরা। বইপ্রেমী আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে না মেলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির প্রাণের এই মেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও একটি বছর। আগামী বছর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা না হলে, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সাথে আড্ডা আর বই কেনার গল্পগুলো চির রঙিন হয়ে জেগে থাকবে হৃদয়ে।


গতকাল মেলা ঘুরে শেষ সময়ের সেই চিরচেনা উপচে পরা ভীড় চোখে পড়ে। শুক্রবার ছুটির দিনে বেলা ১১টায় প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হওয়ার আগে থেকেই প্রবেশপথ এবং এর আশপাশে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। মেলা উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি স্টলেই ভিড় বাড়তে থাকে। বইপ্রেমীরা পছন্দের লেখকের বই কিনতে ছুটছে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে। লেখক-প্রকাশকরাও পার করেন ব্যস্ত সময়। স্টল-প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মীদের যেন দম ফেলার সময় নেই। ফিরে যাবার সময় প্রায় সবার হাতেই দেখা যায় বইয়ের একাধিক ব্যাগ।


এবারে মেলার বিক্রি ও লোকসমাগম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বেশিরভাগ প্রকাশক। তাম্রলিপির প্রকাশক একেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলা তুলনামূলক অনেক ভালো হয়েছে। বলা যায় এবারের মেলায় শুরু থেকেই লোকসমাগম ও বেচাবিক্রি ভালো ছিল। মাঝে কয়েকদিন একটু কমে গিয়েছিল। এখন আবার মেলার শেষ বেলায় এসে ভিড় ও বিক্রি দুটোই বেড়েছে।


এদিন মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টায় মেলা শুরু হলেও ছিলো না শিশুপ্রহরসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল নতুন বই আসে ২১৯টি।  


আজ শনিবার। অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। 


বিকেল ৫ টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য-সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। 

আ.দৈ/এআর

Link copied!