ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি এনসিপির
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ এবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবো। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে মন্দিরের জমি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আজকের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এই মন্দিরের বিশাল জায়গা দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও অনেকে ক্ষমতায় এলে জায়গা উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখানে বুয়েটের যে অংশ রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তারা সেই অংশ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে মন্দিরের বাকি জায়গা তাদের প্রয়োজন, কারণ সেখানে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি জায়গাটি দ্রুত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে আপনাদের দোয়ায় ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরাও জায়গাটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আপনারা আট দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। আলোচনায় অর্পিত সম্পত্তি আইন এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখলের বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা দখলদারদের কোনো দলীয় পরিচয় দিতে চাই না; তাদের পরিচয় তারা অন্যায়কারী। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো হিন্দু ভাই বা বোনের জমি কেউ দখল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব। সংসদের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়ে কথা বলব এবং আপনাদের আন্দোলনের অংশীদার হব।
এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমান সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সনাতন ধর্মাবলম্বী রিয়াদসহ অন্য শহীদদের আমরা স্মরণ করছি এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার এই সময়ে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক, তা আমরা চাই না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত, যখন দেশে কোনো সরকার কার্যকর ছিল না, তখন সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অন্যের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মন্দিরগুলোতে পাহারা দিয়েছিলেন। সামাজিক পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিল, তা বাংলাদেশে অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তির পরাজয় হয়েছে। এখন মানুষ তাদের চূড়ান্ত বিনাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমরা উৎসবের অধিকারকে স্বীকার করি। দুর্গোৎসবের মতো এত বড় একটি উৎসব যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে মুক্ত থাকুক, সেই শুভকামনা জানাই। একই সঙ্গে জানাতে চাই, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি। আপনাদের আনন্দে আমরাও আনন্দিত হই।
আপনাদের সবাইকে পুনরায় শুভ অষ্টমীর শুভেচ্ছা জানাই। সবাই ভালো থাকবেন। আপনাদের জন্য শুভকামনা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ প্রমুখ।
আ. দৈ./একে




















