৮ মাসে সরকারের ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক এমপির পদত্যাগ
আবুল কাশেম:

আপত্তিকর নানা ঘটনায় প্রচন্ড সমালোচনার মুখে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। আর এসব পদত্যাগের পেছনে রয়েছে নানা কারণ। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় অলোকে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ৮ মাসের মাথায় ২ মন্ত্রী এক প্রতিমন্ত্রী এবং একজন এমপি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছে; সবশেষ আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। এরআগে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান,গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন,গত ১ অক্টোবর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের সবার পদত্যগই গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগ:
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নানা অস্র দেখা যায়।
প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন নিজেই অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। সেই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রচার করেন তিনি। পরে ওইদিন মুহূর্তেই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কেবল সাধারণ মানুষের মাঝেই নয়, বরং বিএনপি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
আজ সোমবার গাড়ি থেকে বের হয়েই ইশরাক বললেন, ‘ আমি পদত্যাগ করছি’
এখন থেকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাদকের আখড়া ধ্বংস করব।
অবশেষে প্রচন্ড সমালোচনার মুখে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এই পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কেউ যদি মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করেন, সেটা তার যত কাছের মানুষই হোন না কেন, সে বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটাই হবে। তিনি ইতোমধ্যে সেটা প্রমাণ করেছেন। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেনের পদত্যাগ:
বিএনপি সরকার গঠনের পর সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন প্রথম পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ওইদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে তা গৃহীত হয়। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও পার্বত্য অঞ্চলে নানা আলোচনা চলে। পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমি মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করলাম। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও আলোচনা ছিল।
পরে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ করেন তার অনুসারী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রী স্বপনের পদত্যাগ:
গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তাকে ওইদিনই মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সাথে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্বও একরকম কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা আছে।
সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগ:
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
আ. দৈ./একে




















