৪৬৩ কোটি টাকা পাচার মামলায়
গ্লোবাল টেলের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনসহ ২ জনের ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে ৪৬৩ কোটি টাকার বেশি পাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিউর রহমান খানকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক বিশেষ জজ আদালত। একই সাথে অর্থপাচার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মোট ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে, দুই আসামিই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন। দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায়ে অর্থপাচারের দায়ে দুজনকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাচার করা অর্থের দ্বিগুণ, ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা অনাদায়েও আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে, দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক। ফলে কারাদণ্ড হিসেবে তাদের ১২ বছর করে সাজা ভোগ করতে হবে। নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার কথাও রায়ে বলা হয়েছে।
দুদকের মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্সের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২১ মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মহিউদ্দিন মজুমদার ও অভিউর রহমান খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। গত ৬ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য নেন আদালত।
আ. দৈ./একে




















