মুগ্ধসহ ১১ হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে, ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে পুলিশ,সরকার দলীয় ক্যাডার এবং র্যাবসহ বিশেষ বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে কয়েক হাজার লোকের মৃত্যু হয়। এছাড়া লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এরমধ্যে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন স্বজন।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এবার বিচার শুরু হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। এ মামলায় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আট আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।
অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার আগে ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আসামিদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তারা অভিযোগের বিষয়ে অবগত কি না এবং নিজেদের দোষী নাকি নির্দোষ মনে করেন-তা জানতে চান বিচারকরা। জবাবে আট আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চান।
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার ২৬ আসামির মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমানসহ আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এখন মামলার মূল বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং উভয়পক্ষের যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করা আসামিদের বক্তব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। অভিযোগ গঠনের অর্থ আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন-এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষকে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে আসামিপক্ষও আত্মপক্ষ সমর্থন এবং আইন অনুযায়ী নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
আ.দৈ./একে




















