কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা অভিযোগের মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত। সামাজিক আধিপত্য ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ওই দিন রাতে সাহেব আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর আসামীদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেছেন বিচারিক আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায়ে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেলের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), সামেদ আলীর ছেলে আইন উদ্দিন (৬৮) ও আকতার হোসেন (৪৩), আমেন উদ্দিনের ছেলে সাবু (৪১), আফসার শেখের ছেলে সোহাগ (৩৮), আজির উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৩), মজিবর রহমানের ছেলে বিপুল (৩৪), ছবের উদ্দিনের ছেলে বদর উদ্দিন (৬৮), আসাদুলের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), জামির শেখের ছেলে সুমিন (৩৮), আফসার শেখের ছেলে সেলিম (৪১) এবং আমেন উদ্দিন শেখের ছেলে আবু (৩৭)।
এছাড়া আমির হোসেনের ছেলে জুলু (৩৮) ও রাহুল (৩৪) এই দুজনের দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, সামাজিক আধিপত্য ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামের একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযোগপত্র দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আ.দৈ./একে




















