ঢাবি শিক্ষক জামাল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে পুলিশের করা আবেদনের শুনানি শেষে গত ৭ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান। তিনি আদালতকে বলেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন এবং তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পল্টন থানার মামলাটিতে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গত ২ অক্টোবর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান। আসামিকে আদালতে হাজির করে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা নাশকতার উদ্দেশে রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জড়ো হন। ওই সময় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীতে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে। পরে তদন্তে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদালতে দাবি করে পুলিশ।তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকায় একটি পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এবার একই থানার আরেকটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।
আ. দৈ./একে




















