ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তা
হাসিনা ইস্যুতে নির্দিষ্ট অবস্থান নেই যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশই সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেই বলেও জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে বুধবার এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি ও অঞ্চলটি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বিষয়ে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিনার অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে একটি বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে ওয়াশিংটন আশা করে। হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট মতামত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তাটি জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা অবস্থান প্রকাশ করেনি।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ওই ব্রিফিংয়ে। জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য না করার অবস্থান জানান। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো।
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে এবং দেশটির সমৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।
আ.দৈ/এসআর




















