জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সাঁরাশি অভিযান
রোগীদের হার্টের রিং পরানো সিন্ডিকেটকে ধরতে মাঠে নেমেছে দুদক
আবুল কাশেম:

রাজধানী ঢাকা সহ সাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত লোকজন অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছেন। নিরুপায় ও অসহায় রোগীরা আজ কথিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও সংঘবদ্ধ অর্থলোভী সিন্ডিকেটের কাছে অনেকটাই জিম্মি।
আর এই সুযোগে নিরীহ রোগীদেরকে বেকায়দায় ফেলে নানা ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতে ফেলে দ্রুত হার্টের রিং পরানো এবং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এসব বিষয় আজ ওপেন সিক্রেট ঘটনা। তবে সবাই নিরব রয়েছেন কারণ মানুষের জীবন মরনের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছন না।
অবশেষে সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি টিম আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ অভিযান চালিয়েছে। দুদকের কাছে ইতোমধ্যে অনেক অভিযোগ রয়েছে; রোগীদের হার্টের রিং পরানোর ক্ষেত্রে রোগী কিংবা রোগীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
আজা রোববার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। দুদকের এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, আজ রোববার এই সংস্থাটির সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ অভিযান পরিচালনা করেছেন।
অভিযানকালে হার্টের রিং বিক্রির তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা এবং অভিযোগগুলো অধিকতর যাচাই বাছাই করে সুপারিশ সহ প্রতিবেদন দাখল করা হবে। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাকালে প্রাপ্ত অভিযোগের ধরন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনানুয়োগ ব্যবস্থা করা হবে।
আরো অভিযোগ রয়েছে,রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, গুলশানে ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড’এই হাসপাতালটি এখন ‘কন্টিনেন্টাল হসপিটাল পিএলসি’ ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মডান হাসপাতাল সব আরো অনেক বড় বড় নামকড়া হাসপাতালে আজ দালালদের সিন্ডিকেট রয়েছে। যে কোন ভাবে হার্টের রোগী এসব হাসপাতালে নেয়ার পরই প্রাথমিক পরীক্ষা- নিরীক্ষায় রোগ ধরা পড়লেই, ডাক্তার, কর্মকর্তা এবং দালালরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন এক সাথে ২/৩টা রিং পরানোর জন্য।
কৌশলে রোগী ও অভিভাবকদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করা হয়। বলা হয় একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। এই অবস্থায় রোগীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ২/৩ টা রিং পরাতে হবে। ব্যাংকে জমানো টাকা কম থাকলে দোকান, প্লট, ফ্ল্যাট, জমি বিক্রি কিংবা স্বার্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে দ্রুত টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এমন ঘটনাও ঘটেছে একটি রিং পরালেই হতো, অথচ ওই রোগীকে একাধিক রিং পড়ানো হয়েছে। হাসপাতালগুলো এসব বিষয় এখন অহরহ ঘটছে। তবে বড় বড় হাসপাতালে গত ৫ বছরে হার্টে রিং পরানো রোগীদের নামের তালিকা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ধরে সরেজমিন তদন্ত করা হলে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ভুক্তভোগীদের অভিমত।
আ. দৈ./একে




















