বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের মৃত্যু
ঢাকায় তিন দফা জানাজা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন গোপালগঞ্জে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিচারাঙ্গনের সাবেক বিচারক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান আর নেই। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় তার দুটি জানাজা এবং গোপালগঞ্জে আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে গোপালগঞ্জে পিতা-মাতার কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান ১৯৫৩ সালের ১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শরীফ আব্দুর রাজ্জাক এবং মাতা নূরজাহান বেগম।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স), এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমএ ডিগ্রি নেন। আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি বিচার বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিচারিক দায়িত্বে নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার জন্য সহকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০১০ সালের ২৮ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারি তালিকায় তার এমআইএস নম্বর ০১৩৫০০১০৩৬১। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর তার দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জানাজা সকাল ১১টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে তার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে। সেখানে বাদ আসর পারিবারিক মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে পিতা-মাতার কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।
শোকের ছায়া বিচারাঙ্গনে
তার মৃত্যুতে বিচারাঙ্গন, আইনজীবী সমাজ, সহকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ বিচারিক ও আইন পেশার জীবনে তিনি যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের একজন স্বীকৃত যোদ্ধা হিসেবে শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের জীবন ছিল বহুমাত্রিক। তার মৃত্যুতে বিচারাঙ্গন হারাল একজন অভিজ্ঞ সাবেক বিচারককে, আর পরিবার হারাল তাদের প্রিয় স্বজনকে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
আ.দৈ/এসআর



















