রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শতবর্ষ পর মুক্ত পরিবেশে হাঁটবে ২ প্রজাতির ১৩০০ ক্ষুদ্র শামুক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:০৩ পিএম   (ভিজিট : ৩৩৭)
অবমুক্ত করার আগে শামুকগুলোকে নিরাপদ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ছবি: চেস্টার চিড়িয়াখানা
X

অবমুক্ত করার আগে শামুকগুলোকে নিরাপদ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ছবি: চেস্টার চিড়িয়াখানা

চিড়িয়াখানায় জন্মানো এক হাজার ৩০০-এরও বেশি মটর দানার আকারের শামুক মুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো ধীরগতিতে আটলান্টিকের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে হেঁটে বেড়াবে। বিবিসি শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেসার্টাস দ্বীপের শামুকের দুটি প্রজাতি বন্য পরিবেশে ফিরলো।

এর আগে তাদের এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিলুপ্ত বলে মনে করা হতো। সংরক্ষণবাদীদের একটি দল মাদেইরার কাছে ডেসার্টা গ্র্যান্ড দ্বীপের পাথুরে খাড়া ঢালে কিছু সংখ্যক শামুক আবিষ্কার করার পর এই প্রজাতিকে রক্ষার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

শামুকগুলোকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চিড়িয়াখানাগুলোতে নেয়া হয়, যার মধ্যে চেস্টার চিড়িয়াখানাও ছিল। সেখানে তাদের জন্য রূপান্তরিত শিপিং কনটেইনারে একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা হয়।

এই ক্ষুদ্র মোলাস্কগুলো (কম্বোজ প্রাণী) পর্তুগালের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মাদেইরার ঠিক দক্ষিণ-পূর্বে ডেসার্টা গ্র্যান্ডের পার্বত্য এলাকায় তীব্র বাতাসের মাঝে স্বাভাবিকভাবে বাস করত। কিন্তু মানুষের আনা ইঁদুর, ইঁদুরজাতীয় প্রাণী ও ছাগলের কারণে তাদের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কয়েকটি সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে সংরক্ষণবাদীরা দ্বীপে মাত্র ২০০টি জীবিত শামুক খুঁজে পান। এই শামুকগুলোকে সংগ্রহ করে চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চেস্টার চিড়িয়াখানায় ৬০টি শামুককে আদর্শ খাবার, গাছপালা ও তাদের প্রয়োজনীয় পরিবেশ সরবরাহ করে সংরক্ষণ করা হয়।

চিড়িয়াখানায় জন্মানো এক হাজার ৩২৯টি নতুন শামুককে শনাক্ত করার জন্য নিরাপদ রং ও নেইল পলিশ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। মাদেইরার প্রাকৃতিক সংরক্ষণ ও বন বিভাগের জীববিজ্ঞানী ডিনার্টে টেইক্সেইরা বলেন, ‘এটি রঙের একটি কোড, যা আমাদের শামুকগুলো কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে, কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কতগুলো বেঁচে আছে এবং নতুন পরিবেশে কিভাবে মানিয়ে নিচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করবে।’

শামুকগুলোকে বুগিও দ্বীপে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এটি ইলহাস ডেসার্টাস (মরুভূমি দ্বীপপুঞ্জ) দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট দ্বীপ ও বর্তমানে একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, যেখানে আগ্রাসী প্রজাতি নির্মূল করা হয়েছে।

চেস্টার চিড়িয়াখানার গেরার্ডো গার্সিয়া বলেন, ‘এটি একটি প্রজাতি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি সব ঠিকঠাক চলে, আগামী বসন্তে আরো শামুক মুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এটি একটি বড় দলের প্রচেষ্টার ফল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতিকেও সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে দেখিয়েছে।’

চেস্টার চিড়িয়াখানার আরেক কর্মকর্তা হিদার প্রিন্স বলেন, ‘এই শামুকগুলো দ্বীপগুলোর প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা মাটি পুষ্টিকর করে তোলে, যা গাছপালা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এই ক্ষুদ্র শামুক ও অন্য ছোট প্রাণীদের ভূমিকা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। কিন্তু তারা বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় অপরিহার্য।’   সূত্র : বিবিসি


আ.দৈ/এআর



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝