ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মশার ওষুধ ক্রয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের অভিযান
আবুল কাশেম

অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অ্যাকশন শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের পক্ষ থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বর্জ্য সংগ্রহের কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে।
এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপ-সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যদের টিম।
আজ বুধবার দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে ডিএসসিসিতে পরিচালিত অভিযানের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ও সাহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ডিএসসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বর্জ্য সংগ্রহের কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কীটনাশক সরবরাহ এবং বর্জ্য সংগ্রহের কার্যাদেশ সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ ও ২০১৯ সালে উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) করা হয়। তবে চক্রটির মূলহোতা মিজানুর রহমান নাম ও খোলস পাল্টে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কাজ শুরু করেন।
বিগত দুই বছরে উক্ত চক্রকে ডিএসসিসি থেকে ৩টি কার্যাদেশের মাধ্যমে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সঠিক ওষুধ দেখানো হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের নামে শুধু ‘কেরোসিন’ ছিটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। অভিযোগে মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বড় অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের নামে চলা চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা সরাসরি চাঁদাবাজির অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা জামানত দিয়ে কাজ পাওয়া সাধারণ ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে ডিএসসিসিতে প্রতি বছর বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ময়লা-বাণিজ্যের তথ্য উল্লেখ আছে।
অপরদিকে সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফ্রি ড্রাইভিং কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুস দাবিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক।
দুদক জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুস দাবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন।
আ. দৈ./একে




















