বৃত্তি-উপবৃত্তিতে প্রকৃত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা’র কার্যকারিতা নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যাদের প্রয়োজন বেশি, তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো উচিত, যার শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং শিক্ষাজীবন ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে সক্ষম কোনো পরিবার সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ালে তাদের জন্য একই ধরনের সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। তবে যেসব পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুরাই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
সরকারের লক্ষ্য শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো কারণে যেন তারা শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে—সেটিও নিশ্চিত করা বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা নদী, জলাশয় ও পানিবেষ্টিত পরিবেশে বসবাস করে। তাই সাঁতারকে শুধু খেলাধুলা হিসেবে নয়, জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আ.দৈ/আরএস




















