সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাম প্রতিরোধে জরুরি পরামর্শ দিলেন তাসনিম জারা
‎নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৪৬)
X

চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা দেশের চলমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি জাতীয় হটলাইন, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড এবং দ্রুত ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কৌশল চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন।

তিনি উল্লেখ করেন, হামের ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘর থেকে বের হওয়ার দুই ঘণ্টা পরও সেখানে প্রবেশকারী ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন। এ কারণেই হাম ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাকে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বলা হয়।

তাসনিম জারা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার ৯০ বা ৯৫ শতাংশ হলেও দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় টিকার কভারেজ অনেক কম থাকতে পারে। চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, শহুরে বস্তি কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ‘ফাঁকা পকেট’ তৈরি হয়, যেখানে সহজেই প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি জাতীয় হাম হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে হামের লক্ষণ—জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লাল র‍্যাশ—সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে হবে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অভিভাবকরা নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করবেন।

কল সেন্টারের প্রশিক্ষিত চিকিৎসকেরা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগী শনাক্ত করবেন এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাবেন। এতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে যুক্ত করতে হবে, যেন রিয়েল-টাইমে কোন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা মহল্লায় কেস বাড়ছে তা শনাক্ত করা যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত টিকাদান ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।

তাসনিম জারা তার পোস্টে ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কৌশলের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তার সংস্পর্শে আসা পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন, যেন ভাইরাসের বিস্তার থামানো যায়।

হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টিকে তিনি ‘সংক্রমণ-ব্যবস্থাপনার বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, জরুরি বিভাগ, করিডর ও ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।

এ সমস্যা সমাধানে তিনি তিনটি পদক্ষেপের কথা বলেন—প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট হাম চিকিৎসাকেন্দ্র, জাতীয় বেড-অ্যাভেইলেবিলিটি ড্যাশবোর্ড এবং প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ডা. জারা। তিনি বলেন, অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে রোগীকে দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, যা জটিলতা ও সংক্রমণ দুটোই বাড়াচ্ছে। হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় সরকারিভাবে বহনেরও আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামসহ সংক্রামক রোগ মোকাবিলার কার্যকর কৌশল এরই মধ্যে প্রমাণিত। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
স্বাস্থ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝