ধর্মমন্ত্রীর সহযোগিতায় দেশে ফিরেন তারা
“মাস্ক হজ্জ গ্রুপের”প্রতারণা জালিয়াতি ও হয়রানীর শিকার ৫৫ ওমরা পালনকারী
নিজস্ব প্রতিবেদক :

“মাস্ক হজ্জ গ্রুপের” মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা, জালিয়াতি ,হয়রানীর এবং সমুদ্বয় টাকা হাতিয়ে নিয়ে মক্কায় ফেলে পালিয়ে আসার গুরুতর অভিযোগ করেছেন পবিত্র ওমরাহ হজপালনকারী ৫৫ জন নিরীহ মানুষ। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সাথে যোগাযোগ করলে,সরকারের উদ্যোগে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এই জগন্যতম প্রতারক “মাস্ক হজ্জ গ্রুপের” মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্তা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্র্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুতর অভিযোগ আনেন “মাক্স হজ গ্রুপের” প্রতারণার শিকার ৫৫ জনওমরাহ যাত্রীর পক্ষে এডভোকেট একরামুল কবীর রোমেল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত রমজানের ঈদের দিন ৫৫ জনের একটি দল “মাস্ক হজ্জ গ্রুপের” মাধ্যমে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় গিয়ে বিপদে পড়েছেন। তাদেরকে ভালোমানের খাবার ও হোটেলে রাখার কথা ছিল। কিন্তু সৌদিতে যাবার পর তাদেরকে নিম্নমানের হোটেলে রাখা হয় এবং নিম্নমানের খাবার খেতে দেওয়া হয়।সৌদি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের কথা বলে বেশি টাকা নিয়েছে। পরে অন্য একটি কোম্পানীর বিমানের তাদেরকে মক্কায় নেয়া হয়।পবিত্র ওমরাহ পালনকারীদেরকে শুরু থেকেই নানা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য দিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার শুরু করে “মাস্ক হজ্জ গ্রুপের” মালিক পক্ষ।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার জন্য রিটার্ন টিকিট দেই দিচ্ছি বলে টাল বাহানা শুরু করে “মাস্ক হজ্জ গ্রুপের” মালিক পক্ষ। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের আগে কোনো টিকিট দেখানো হয়নি,পরে দেশে ফিরার সময় জাল টিকেট দিয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শুরু হয় চরম দুর্ভোগ। হোটেল ও খাবার ব্যবস্থাপনাও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৫৫ জন যাত্রীর রিটার্ন টিকিট গত ২ এপ্রিলের বলে জানানো হয়েছিল। সেটিও সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। ফলে ৫৫ জন যাত্রী তখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল বয়স্ক নারী,পুরুষ ও শিশু ।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা ধর্ম মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ভাগ্রক্রমে ওইসময় ধর্মমন্ত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।পরে বিষয়টি মন্ত্রী অবগত হওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন,তাদেরজন্য খাবার দাবার এবং দেশে ফিরে আসার ব্যবস্থা করেন।
বর্তমান সরকার ও ধর্ম মন্ত্রণালয়য়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৫৫ জন ওমরা পালনকারী।একইসাথে প্রতারক “মাস্ক হজ গ্রুপের” মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ওমরাহ হজ ব্যবস্থাপনাকে সুন্দর করতে সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু মতামত তুলে ধরেন:
ওমরাহ যাওয়া ব্যবস্থাপনাকে যথাসম্ভব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ব্যবস্থা করা। বিদেশে যাওয়ার আগে যাত্রীদের রিটার্ন টিকিট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হোক। ইমিগ্রেশন পর্যায়ে ভিসা ও টিকিট পুনরায় যাচাই নিশ্চিত করা হোক। প্রতারণাকারী যে কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু করা হোক, যেখানে যাত্রীরা নিজেরাই ফ্লাইট, হোটেল ও প্যাকেজ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
আ. দৈ./কাশেম




















