হঠাৎ চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ
সরকার ও গভর্নরকে চাপে ফেলার কৌশল
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
বিএনপি সরকারের মধুচন্দ্রিমা পার হতে না হতেই গভর্নর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছে দেশ জুড়ে। নতুন গভর্নর সস্পূর্ন দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই তাকে বিতর্ক করতে উঠেপড়ে লেগেছে সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রিয়ভাজন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে জামায়াত পন্থী কর্মকর্তাদের একটি গোষ্ঠী।
ইতিমধ্যে, তারা নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে বেসরকারি খাতে ’খোখলা’ হওয়া চারটি ব্যাংকের তড়িগড়ি করে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।
একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া চারজনই সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। এদেরকে বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকের কার্যক্রম গভীরভাবে তদারকির জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে যার ফলে এই ব্যাংকগুলো পরবর্তীতে মার্জার করার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক। যদি এই ব্যাংকগুলো মার্জার করতে হয়, তাহলে চাপে পড়বে নতুন সরকার। ব্যাংক খাত ধসের কিনারায় চলে যাবে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা করার জন্য ব্যাংকের পর্ষদ রয়েছে। সেখানে বাহিরের আরেকজন থাকলে সেখানে কাজ হয় না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করতে পারে। কিন্তু সেখানে আরেকজন গিয়ে কাজ করলে কাজের ব্যঘাত ঘটবে। তাই প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়াই ভালো। আগের সরকারও তো প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। তাতে কি কোন কাজ হয়েছে বরং উল্টো আরো বেশি দুর্র্নীতি হয়েছে।
নতুন করে প্রশাসক হলেন ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২-এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকে।
এ ছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর পরিচালন কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক অবস্থার ওপর সরাসরি নজরদারি জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। আইএফআইসি ব্যাংক পরিচালনা করত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।




















