ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর দাখিল
চুপ্পুসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, নানা অনিয়ম, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৭ অক্টোবর দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সদ্য বিদায়ী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করেনি। দুদকের পক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত আগামী ২৭ অক্টোবর দাখিলের দিন ধার্য করেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত নতুন করে আগামী ২৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
আরো জানা যায়, মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওই সময়ে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেন এবং দুদককে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মামলায় আসামিদের তালিকায় তার নাম ১২ নম্বরে রাখা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, এস আলম ও ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি পরিচালক নির্বাচিত হন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিনসহ আরও ১৬ জন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার কিনেছিল। ব্যাংকের মোট শেয়ারের হিসাবে এর পরিমাণ ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫১ কোটি টাকা।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিষয়টিকে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বাদীপক্ষের অভিযোগেঅআরো বলা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে জনগণের অর্থের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ওই শেয়ার অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এসব কোম্পানির অনেকগুলো এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শেয়ার লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রি ও কেনার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের লেনদেনের তারিখ একই ছিল। এর মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তর একটি পূর্বনির্ধারিত ও সমন্বিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় এস আলম গ্রুপ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও তাদের মনোনীত পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়া অন্য আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেন আদালত।
আ. দৈ./কাশেম




















