কক্সবাজারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের কর্মকর্তা কোটি টাকা নিয়ে উধাও, মহাসড়ক অবরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই ব্যাংকের বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে টানা তিন ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পালংখালী বাজার এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন ভুক্তভোগীরা। গত ১৮ আগস্ট পালংখালীর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে গণমাধ্যেকে ওসির এমন আশ্বাসের পর ভুক্তভোগী বিক্ষোভকারীরা প্রায় তিন ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। পরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার পালংখালীর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় এলাকার বিভিন্ন গ্রাহক টাকা জমা ও লেনদেন করে আসছিলেন। হঠাৎ গত ১৮ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গ্রাহকদের জমাকৃত বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
জমাকৃত টাকা ফেরত না পাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। টাকা ফেরতের দাবিতে শতশত নারী- পুরুষ ভুক্তভোগীরা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ব্যাংকের এ কর্মকর্তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ লাখ, ১০ লাখ, ২২ লাখ, ১৫ লাখ এভাবে শতশত গ্রাহকের টাকা তারা আত্মসাৎ করে উধাও, ওই এজেন্ট ব্যাংকের ৮ হাজার গ্রাহক ছিল। তবে এ ঘটনায় উখিয়া থানায় ৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা ব্যাংকের মালিক হাকিম উদ্দিন ও কর্মচারী মোহাম্মদ তাহসিনকে আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছিল। সেখানে আরও ৭ জন পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী পালংখালির বাসিন্দা খাদিজাতুল কুবরা বলেন, আল-আরাফাহ এজেন্ট ব্যাংকে আমার ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা ব্যাংকের রশিদ দিতেন। মোবাইলে কোন এসএমএস আসতো না। পরে টাকা খুঁজতে গেলে আজ দেবো কাল দিবো বলে দিতো না। পরে জানতে পারলাম তারা সবাই টাকা নিয়ে ব্যাংক বন্ধ করে উধাও হয়ে গেছে।
বটতলি পূর্ব পারিবিল এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী জাফর আলম বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় তার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ টাকা জমা রয়েছে। কিন্তু শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি তার টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তাই নিজের জমাকৃত টাকা ফেরতসহ সব গ্রাহকের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবিতে তারা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালির বাসিন্দা কাদের হোসেন বলেন, ওই এজেন্ট ব্যাংকে আমার ২২ লাখ টাকা জমা ছিল। কিন্তু ব্যাংকের কর্মকর্তারা শত শত গ্রাহরের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিলো। এভাবে প্রতারণা করলো আমরা বুঝতেও পারেনি। এখন আমরা টাকাগুলো কি করে পাবো কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
আরেক ভুক্তভোগী রাবেয়া বশরি বলেন, এলাকার অনেক মানুষ ২ হাজার, তিন হাজার, পাঁচ হাজার করে তারা আমাকে টাকা জমা দিতো, আমি আবার সে টাকা আল-আরাফাহ এজেন্ট ব্যাংক পালংখালি শাখায় আমার একাউন্টে জমা রাখতাম, সেখানে ১ লাখ টাকা ছিল, এখন এই ব্যাংক কর্মকর্তারা সব টাকা নিয়ে উধাও।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আল-আরাফাহ এজেন্ট ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পলাতক রয়েছেন, তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কোনো ভুক্তভোগী আরও মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে। এছাড়া আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও সেবা দেওয়া হবে।
আ. দৈ./একে




















