রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভের পালে হাওয়া
রমজান আলী

দেশে গত কয়েক মাস ধরেই ইতিবাচক ধারায় রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের রিজার্ভের পরিমাণও বাড়ছে। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক উত্থান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনায় রিজার্ভ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে আর গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাড়ছে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণও।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-১৩ অক্টোবর ২০২৪) রেমিট্যান্স এসেছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থবছর অনুযায়ী রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে—জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে। তাদের মতে, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাই রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে বেড়েছে, তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি এ-ও বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, সেগুলো দেশের বিনিময় হার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তারা মূল্যায়ন করবে।
গত শুক্রবার হংকং থেকে আইএমএফের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক এ সংবাদ সম্মেলনে টমাস হেলব্লিং বলেন, সংস্থাটির একটি দল চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে। এ সময় সংস্থাটির সঙ্গে চলমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা করবে তারা।
হেলব্লিং বলেন, আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল রিজার্ভ বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবেই চলমান বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভ বেড়েছে বাংলাদেশের। তিনি বলেন, বৈদেশিক লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা ঋণ কর্মসূচির একটি মূল লক্ষ্য। সুতরাং রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাফল্য প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত টাকার মান কমেছে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ, বিশেষ করে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।




















