বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে করণীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:২৬ পিএম   (ভিজিট : ১৬৭)
X

মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ হচ্ছে বৃষ্টি । কেননা বৃষ্টির সঙ্গে পৃথিবীর জীবজগতের অস্তিত্ব নিবীড়ভাবে জড়িত। ইসলাম বৃষ্টির কল্যাণ লাভের জন্য কিছু আমল বর্ণনা করেছে। 

যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

১. দোয়া পাঠ করা : আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) যখনই বৃষ্টি হতে দেখতেন তখন পাঠ করতেন 'আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফিণ্টআহ'। অর্থ : হে আল্লাহ আপনি যে মুষল ধারায় বৃষ্টি দিয়েছেন তা যেনো আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়।' (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩২)

২. বৃষ্টিতে ভেজা : যদি চিকিৎসকের বারণ না থাকে, তবে হালকা বৃষ্টিতে শরীরের কিছু অংশ ভেজানো স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি সুন্নত। আনাস (রা.) বলেন, 'একবার আমরা রাসুল (সা.) এর সঙ্গে ছিলাম; তখন আমাদের বৃষ্টি পেল। তিনি বলেন, তখন রাসুল (সা.) তার গায়ের পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন যাতে গায়ে বৃষ্টি লাগে। তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বলেন, কারণ বৃষ্টি তার প্রতিপালকের কাছ থেকে সদ্য আগত।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৯৮)

৩. প্রবল বৃষ্টি হলে দোয়া : প্রবল বৃষ্টি হলে নবী (সা.) বলতেন, 'আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা, ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকাম ওয়াজ জুরাব ওয়া বুতুনিল আওদিআ ওয়া মানাবিতিস শাজার।' অর্থ—হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপরে নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়—টিলা, খাল—নালা এবং উদ্ভিদ গজানোর স্থানগুলোতে বৃষ্টি দিন (সহিহ বুখারি, হাসিদ : ১০১৪)।

৪. বজ্রপাত হলে দোয়া ও সাবধানতা : বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাত শুরু হলে মানুষ ভীত হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের প্রাণ বিপন্ন হতেও দেখা যায়। এজন্যই যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো কিংবা ঝড়োবাতাস দেখা দিতো, তখন নবী (সা.)—এর চেহারায় চিন্তার রেখা ফুটে ওঠত। তখন তিনি পায়চারি করতেন আর নানা দোয়া পড়তে থাকতেন। আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) বলেন, 'বজ্রপাতের সময় রাসুল (সা.) দুই কান ও কথা বন্ধ রাখতেন এবং বলতেন, সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা দু বিহামদিহি ওয়াল মালা—ইকাতু মিন খিফাতিহি।' অর্থ— পবিত্রতা ও মহিমা গোষণা করছি সেই প্রভূর যার ভয়ে তার প্রশংসা পাঠ করে বজ্রপাত ও ফেরেশতাগণ। [সুরা রাদ : ১৩]। এরপর বলেন, এটি দুনিয়াবাসীর জন্য চরম হুমকি। (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭২৩)

৫. বৃষ্টি শেষে দোয়া পড়া : বৃষ্টি থেমে গেলে নবী (সা.) পাঠ করতেন, 'মুত্বিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়ারাহমাতিহি"। অর্থ: আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের মাঝে বৃষ্টি হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪৬)

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। নবী (সা.) বলেছেন, দুই সময়ের দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না। এক. আজান চলাকালীন সময়ের দোয়া। দুই. বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া। (সহীহ আল জামে', হাদিস : ৩০৭৮)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের যথাযথ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আ.দৈ/ওফা


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
ধর্ম- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝