গাড়ি বহরে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে হত্যা
নাশকতায় জড়াচ্ছে ঘাপটিমারা আ’লীগ
আরিফ সাওন:

নাশকতায় জড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাপটি মেরে থাকা নেতাকর্মীরা । ছাত্র জনতার আন্দোলনে পতনের পর থেমে নেই তাদের ষড়যন্ত্র-সহিংসতা। পরিকল্পিত ভাবে নৈরাজ্য তৈরি সৃষ্টি করে চলছে। সবশেষ আওয়ামী লীগের সহিংসতার শিকার হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী। এসময় তার সঙ্গে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. শওকত আলী দিদারকে খুন করা হয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে দেশে ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশে রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে যাওয়ার পর বসে নেই। সেখানে বসেই একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি ভারতে যাওয়ার পর ঘটে নজিরবিহিন ঘটনা। ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানিতে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফেনী, লক্ষিপুরসহ কয়েক জেলার মানুষ।
শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে ভারতীয় কিছু সংবাদ মাধ্যমে দিনের পর দিন বাংলাদেশ নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর ভিত্তিহীন তথ্য। হঠাৎ করে দুই দিন আগে ছেড়ে দেওয়া হয় শেখ হাসিনার কল রেকর্ড। সেখানে তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশের খুব কাছেই আছেন- যাতে খুব তাড়াতাড়ি দেশে ঢুকে পড়তে পারেন। তারই এই বক্তব্যে প্রকাশের পরই গোপালগঞ্জে ঘটলো স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার উপর হামলার ঘটনা। যাতে প্রাণ হারালেন স্বেচ্ছাসেবক দলের আরেক নেতা।
জানা গেছে- শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে একের পর এক ঘটনা তার দোসররা ঘটিয়েই যাচ্ছে। প্রথমেই ডাকাত আতঙ্ক শুরু হয়। রাত ভর ডাকাত ডাকাত চিৎকার। সকালে জানা যায় ডাকাতি হয় নাই। পরে দেখা যায় এগুলো আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার অংশ। হিন্দুদের মন্দিরে ব্যাপক ভাবে হামলার অপপ্রচার করা হয়। যা ভারতীয় গণমাধ্যমে রং মিশিয়ে ছাপানো হয়। পরে মন্দির রক্ষায় ছাত্র-জনতা বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পাহারা বসান। এরপর এটিও বন্ধ হয়। প্রতিনিয়ত একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের দোসররা অনেকেই এখনো বহাল তবিয়াতে আছেন। আর চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অপতৎপরতা।
ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়ে হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হলেও এদিকে গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল না হারানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা পাহাড় সমান কষ্ট নিয়েও হিমালয় সমান মনোবল নিয়ে অটুট আছেন। তার হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা সদা প্রস্তুত। এই আঁধার কেটে যাবে খুব শিগগিরই।
ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা চোরাগুপ্তা হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের নাশকতায়। সবশেষ ঘটনা ঘটালো গোপালগঞ্চে।
গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানা পাটগাতি নিজ গ্রামে যেতে পারেননি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল- কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী।
আওয়ামী স্বৈরাচার পতনের পর শুক্রবার টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জ সদর থানার গুনাপাড়া এলাকায় আওয়ামী দুস্কৃতিকারিরা এস এম জিলানীর গাড়ীবহরে বেপরোয়া হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. শওকত আলী দিদারকে খুন করে। এস এম জিলানী ও তার সহধর্মিনী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা রত্না ও তাদের দুই ছেলেসহ গাড়ীবহরের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। হামলাকারীরা নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়ীবহরেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হলেও দেশে এখনও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে পরাজিত শক্তির দোসররা। তারা গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। অবৈধ আওয়ামী শাসনামলে এই সন্ত্রাসীরা অনেক কালো টাকা উপার্জন করেছে, সেই কালো টাকা তারা এখন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কাজে লাগাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে মেনে নিতে পারছে না বলেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর জন্যই বিএনপি এবং অন্যান্য সমমনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ জনগণের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে খুন ও তাদেরকে গুরুতর জখম করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনা একটি গভীর দেশী-বিদেশী চক্রান্তের বহি:প্রকাশ। এসব সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করার কোন বিকল্প নেই। হামলা ও রক্তাক্ত পথ অনুসরণ করে ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে ফায়দা হাসিল করতে না পারে সেজন্য ছাত্র-জনতাসহ সকল গণতন্ত্রমণা মানুষকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এখনও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে। আর তাহলেই দেশ থেকে ষড়যন্ত্রকারী ও দুস্কৃতিকারিদের মূলোৎপাটনসহ দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে হামলাকারী দুস্কৃতিকারিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহবান জানান। তিনি নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।
আ. দৈ./ কাশেম/ আরিফ




















