পরাজিত শক্তি উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশ ও দেশের বাহির থেকে পরাজিত শক্তি চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দিয়ে দেশকে অস্তিতিশীল করতে দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। আবার দেশের ভেতরেও কিছু একটি শক্তি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
রিজভী বলেন, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৮ মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, যে বিষয়ে সংসদে বসে কথা বলে সমাধান করা যায়, সেটা না করে লংমার্চ করে দেশের মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন কি না এটা নিয়ে মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় বিপ্লবের কথা বলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলটির নেতা-কর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে মিশে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এজন্য তাদেরকে গুপ্ত সংগঠন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশের কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তবে ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা বিএনপি সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাসী। সমাজে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের কথা মানুষ জানে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কীভাবে বিভিন্ন নেতাকে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, সেটিও সবার জানা। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা সফল হবে না।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ গ্রহণ করবে না।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিজভী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। যার জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। ভোট গ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণার পর দলীয় কার্যক্রমও সেই অনুযায়ী এগোবে।
মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশেনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরী।
আ দৈ/ এস এন




















