লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন হামলার ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি কিল-ঘুসি ও লাথি মারা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহেদ ও তাঁর অনুসারীরা এ হামলা চালান।
আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি। অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারি হয়। পরে চিকিৎসা নিতে জুয়েল হাসপাতালে গেলে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সেখানে যান। হাসপাতালের সামনের অংশে মারধরের শিকার হয়ে জুয়েল জরুরি বিভাগের কক্ষে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও তাঁকে চেয়ার দিয়ে পেটানোসহ এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভি জানান, শাহেদ আগে দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই, তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা দুঃখজনক। সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও আতঙ্কে রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ.দৈ/আরএস




















