ঢাকার গণপরিবহন
শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরকারের
সাত দিনের মধ্যে দুই রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস, ছয় মাসে পূর্ণ বাস্তবায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি রুটে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে রাজধানীর ৩২টি রুটের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে। ওই কোম্পানিই বাসের ফিটনেস, চালকদের শৃঙ্খলা, পরিচালন ব্যবস্থাপনা এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি কাউন্টারভিত্তিক সেবা, ই-টিকিটিং এবং জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাস মালিকদের সংগঠনকে রুট র্যাশনালাইজেশন বা রুট পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি রুটে বাস চলাচল করছে। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাস রয়েছে। বিদ্যমান রুটগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি রুটে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, ছোট ও পরস্পর-সংলগ্ন রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচলের কারণে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এর ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা, যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বাসও গণপরিবহনের নিরাপত্তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুট পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব তৈরিতে যাত্রীদের চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ জন্য ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওঠানামার স্থান, ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর যাত্রার শুরু ও গন্তব্য, ৫২টি স্থানে ৭২ ঘণ্টা ধরে যানবাহনের সংখ্যা এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সড়কের ড্রোনচিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাস মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার বিষয়ে সমঝোতা হয়। ওই ব্যবস্থায় বাসের ফিটনেস ও আইনগত বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের ওপর থাকবে। বাস মালিকদের প্রয়োজনীয় মেরামত, বাসের বডি সংস্কার ও রং করার জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করতে ব্যর্থ এবং মানসম্মত নয়—এমন জরাজীর্ণ বাস সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রাজধানীর বাসস্টপগুলোর তালিকা এবং কোথায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, তা দুই সিটি করপোরেশনকে জানাবে ডিটিসিএ ও ডিএমপি। এরপর তিন মাসের মধ্যে সিটি করপোরেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বাসগুলো নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানো করতে পারবে না। ডিএমপির প্রস্তাবিত কয়েকটি সার্কুলার বাস রুটের সম্ভাব্যতাও যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহ করছে। প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে এসব বাস চালানোর প্রস্তাব রয়েছে। বিআরটিসি, বাস মালিকদের সংগঠন ও ডিটিসিএর সমন্বয়ে এসব বাসের জন্য উপযুক্ত রুট নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন নিয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের মূল্য কমে যাচ্ছে এবং সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। এ অবস্থায় জব্দ যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তির পথ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জব্দ যানবাহন সংক্রান্ত বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ডিএমপি কমিশনার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক)কে।
আ.দৈ/এসআর




















