ছাত্রদল নেতা সারোয়ার আলম পিয়াসের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াসের বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সারোয়ার আলম পিয়াসের সমর্থকদের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে না থাকা সত্ত্বেও কী ভিত্তিতে এমন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তারা বহিষ্কারাদেশের কারণ ও এর পেছনে থাকা অভিযোগগুলো প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত সারোয়ার আলম পিয়াস। তার অনুসারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি বিভিন্ন মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন।
জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে পিয়াসকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে সরে যাননি। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সমর্থকদের দাবি, দলের কর্মসূচি, মিছিল ও সভা-সমাবেশে শুরু থেকেই তিনি সামনের সারিতে থেকে অংশগ্রহণ করে আসছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়েও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় পিয়াসের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত বা প্রমাণ রয়েছে কি না এসব বিষয় নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করছেন তার অনুসারীরা।
তাদের বক্তব্য, একজন দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, তদন্তের প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তি পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত। এতে সংগঠনের ভেতরে বিভ্রান্তি কমার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যেও সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পষ্টতা তৈরি হবে।
তবে সারোয়ার আলম পিয়াসের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দলীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। বহিষ্কারাদেশের লিখিত আদেশে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে এবং দলীয় তদন্ত বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার কোনো তথ্য রয়েছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে পিয়াসের সমর্থকদের দাবি, তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং বহিষ্কারাদেশের ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। একই সঙ্গে তারা দলীয় নেতৃত্বের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আ.দৈ/আরএস




















