পদ বাণিজ্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আম্মারকে বহিষ্কার করেছিল শিবির
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে পদ বাণিজ্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে সংগঠনটির তিনটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। চিঠিগুলোতে প্রথমে আম্মারের সাথী পদ স্থগিত এবং পরে তা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির প্রথম চিঠিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়ে সাথী পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়।
এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং একাধিকবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না আসায় তাঁর সাথী পদ বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়।
২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতেও এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানে নৈতিক স্খলন, মৌলিক ইবাদতে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ চলাফেরা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তাঁর সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাঁর অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সালাউদ্দিন আম্মার শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। রাকসু নির্বাচনে তিনি ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পান।
এদিকে আম্মারের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় তাঁর পাশাপাশি রাকসু ও শিবিরের আরও কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়।
তিনটি চিঠির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাবি শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান চিঠিগুলো সত্য বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই আম্মারকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এ বিষয়ে আম্মারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আ.দৈ/আরএস




















