নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যেই ১,৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের মধ্যেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে মিয়ানমারের বৃহত্তর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির সরকার দাবি করছে, প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী এবং ২৭ জন শিশু রয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারই প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছে। পরিচয়, নথিপত্র ও তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী ধাপে আরও মানুষকে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সরাসরি যুক্ত নয়।
ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতার কারণে এখনো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ ছিল না।
মালয়েশিয়া সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থান দেশটির ওপর আর্থিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি করেছে। এসব কারণেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মালয়েশিয়া ও অ্যাসাইলাম অ্যাক্সেস মালয়েশিয়া যৌথ বিবৃতিতে প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং মিয়ানমারে পৌঁছানোর পর তাদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, আশ্রয়প্রার্থী বা স্বীকৃত শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হলে তাদের নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আ.দৈ/আরএস




















