রাজস্ব বিভাগে চলছে জালিয়াতি ও হরিলুট
ডিএনসিসিতে অঞ্চলঃ ১০ এর কর কর্মকর্তা মাইদুলের দুর্নীতি ও জালিয়াতি, প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে অভিযোগ
আবুল কাশেম

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও সুবিধাভোগী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের আমলে নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মাইদুল ইসলামসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালে ডিএনসিসিতে রাজস্ব বিভাগে চাকরিতে নিয়োগ পাবার সুবাধে মাইদুল ইসলাম রাতারাতি কোটি বনে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসিসিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী উপকর কর্মকর্তা (ডিটিও) বর্তমানে অতিরিক্ত দায়ীত্ব কর কর্মকর্তা মোঃ মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ভয়াবহ জালিয়াতি ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত কোটিপতি হবার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপকর কর্মকর্তা মোঃ মাইদুল ইসলাম চলতি বছর ২০ জানুয়ারি থেকে ডিএনসিসির অঞ্চলঃ ১০ এর কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। এই দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি একক ক্ষমতার বলে রাজস্ব বিভাগের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন করার জন্য বিভিন্ন বাড়ি/ ভবনের মালিকদের কাছে ৫/৭ বছর আগে বকেয়াসহ মনগড়া পাওনা টাকা উল্লেখ করে প্রথমে চিঠি পাঠান। পরে চিঠি পেয়ে মালিক পক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করলে বকেয়া টাকার দাবি থেকে সরে যান। এমনকি তিনি অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে দাবিকৃত হোল্ডিং ট্যাক্সকে চলতি অর্থ বছর থেকে অনেক কম টাকা নির্ধধারণ করেন। শুধু তাই নয়, বেআইনী ভাবে আইনী কথা উল্লেখ করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ব্যাংক ঋণের কাগজপত্র কম্পিউটারে তৈরি করে নথিতে সংযুক্ত করেন। পরে সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও ভবনের মালিকদের ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকেন। এর ফলে ডিএনসিসি মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে কর্মকর্তা মোঃ মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে গত ৫ মে ২০২৬ সাল সাতারকুল এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঢাকা- ১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে সুনিদিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএনসিসির আওতাধীন সাতারকুল ও বাড্ডার কাছে বাড়ী নং ২০০৭ পূর্ব পদরদিয়া (পুকুর পাড়া) ওই বাড়ির মালিকের কাছে পাওনার পরিমান ছিল প্রায় ২৬ লাখ টাকা। পরে বাড়ির মালিক সুইডেন প্রবাসী মোঃ সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ভূয়া ঋনের কাগজ তৈরি করে তাকে ঋন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
কৌশলে ডিএনসিসিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে মোট পাওনার পরিমান কমিয়ে নিয়েছেন। প্রায় ২৬ লাখ টাকার স্থলে ২১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ট্যাক্স নিধারণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাড়ী নং ১২১ পূর্ব পদরদিয়া সাতার কুল- বাড্ডা ঢাকার মালিক নুর মোহাম্মদ সুমন গং এর হোল্ডিং ট্যাক্স পাওনার পরিমান ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এখানেও ভুয়া ঋণ সুবিধা দিয়ে ডিএনসিসিকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। পাওনা ট্যাক্স নির্ধরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৭২, হাজার ৫১৫ টাকা ।
কর কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৪১ নং ওয়ার্ডের যত বাণিজ্যিক প্লট বা স্থাপনা আছে সেগুলোর মধ্যে কর নির্ধারন ছাড়াই ভুয়া পওনার নোটিশ দিয়ে মানুষকে হয়রানী করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে আসছে । যেমন বাড়ী নং- ২২ মেইন রোড, মগার দিয়া সাতারকুল বাড্ডা, ঢাকা, মালিক মোঃ রোকশেদ আলী গং পাওনা টাকার পরিমান ভুয়া কাগজ দিয়ে ৯ লাখ ১৪ হাজার ১১২- টাকা। উক্ত হোল্ডিং এর ২৪/২ ধারা চিঠি যদিও একজন হিসাব সহকারীর লেখার কথা। উক্ত চিঠি লিখেছেন কর কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম নিজেই। যা সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে বিরল। অন্য একটি হোল্ডিং হলো, বাড়ী-১৬৫, সাতারকুল মেইন রোড, সাতারকুল, বাড্ডা, ঢাকা। মালিক মোঃ হোসেন আলী ভুয়া পাওনার পরিমান ১১ লাখ ১০ হাজার ০২৮ টাকা ।

বিধি মোতাবেক একটি পাওনা নোটিশে সহি করবেন হিসাব সহকারী, রেভিনিউ সুপারভাইজার । কিন্তু মাইদুল ইসলাম নিজেই সবার পক্ষে (আমি নিজে) উপ কর কর্মকর্তা, এবং কর কর্মকর্তা হিসেবে সই করেন। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাবেক এই ছাত্রলীগ কর্মী নিজেই বে-ঠিক প্রসিডিওর মেইনটেইন করে মানুষকে হয়রানীমূলক পাওনার চিঠি পাঠান।
ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তী খুন্ন হচ্ছে। উপরোক্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা/তদন্ত পূর্বক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসলে হয়রানী থেকে বেঁচে যাবে অনেক মানুষ এবং সরকারী কোষাগারে জমা হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতি গ্রস্থতার হাত থেকে রক্ষা পাবে ডিডিএনসিসি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্ম হাবীবুল আলমের সাথে ‘আজকের দৈনিক পাত্রকার ’এই প্রতিনিধি কথা বলেন। তিনি জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে অভিযুক্তদেরকে অবৈধভাবে ঋন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি জানার পর প্রশাসকে স্যারের সাথে আলোচনা হয়। পরে তাদেরকে অবৈধভাবে দেওয়া ঋণ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। কারণ ডিএনসিসিতে বেআইন কাজকে বৈধতা দেওয়ার সেযোগ নেই এবং দেওয়া হবে না। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরো জানান, ডিএনসিসির অভিযুক্ত কর কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলামকে ওই অপরাধের জন্য শোকজ করা হয়েছে। এই বিষয়টি এখন বিরাধীন রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) :
এদিকে গত ১৩ জুলাই ডিএনসিসিতে কর্মরত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পদেকর স্বাক্ষরে বিএনপি মহাসচিবের দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসীবাদী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী কৌটায় ডিএনসিসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকাসহ ফ্যাসীবাদী আমলাদের সম্পর্কে অবগত কারা হয়েছে।
অভিযোগের শুরুতেই বলা হয়েছে, স্বৈরাচার সরকারের ফ্যাসীবাদী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কোটায় অনেক নেতা কর্মী ডিএনসিসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ফ্যাসীবাদী সরকারের দোসর সাবেক মেয়র মোঃ আতিকুল হক শুধুমাত্র নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের নিয়োগই দেন নাই তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করে গেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ সুবিধাও দিয়ে গেছে।
এছাড়াও ২০২৪ সালে পট পরিবর্তনের পর অবৈধ সুযোগ সুবিধাভোগকারীরা পূর্বের পদে বহাল থাকার জন্য বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে ডিএনসিসির উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর তদবির করে যাচ্ছেন।
এতে বিগত খোল বছরের নানাভাবে নির্যাতিত শ্রমিকদল ও বিএনপিপন্থী নেতা কর্মীদের প্রতি উপহাস করার শামিল। বিগত ফ্যাসীবাদী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছাত্র জনতা হত্যাকারী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী বর্তমানে বিএনপি কর্মী হিসাবে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
যার ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে কারা কোন দলের কর্মী বা সমর্থক তা ডিএনসিসি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলই ভালো জানেন। তাই ডিএনসিসি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সুপারিশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
অতএব, ওই স্বৈরাচার সরকারের ফ্যাসীবাদী অর্যক্রমের অংশ হিসাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কৌটায় ডিএনসিসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের পক্ষে সুপারিশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।ওিই তালিকায় করকর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলামের নামও রয়েছে।
আ. দৈ./একে




















