সালমানের স্টুডিও ভাঙচুরে বিএনপিকে জড়ানো ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’: রাশেদ খান
নিজস্ব প্রতিবেদক

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢালাওভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খানের দাবি, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে।
রাশেদ খান নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগের ডোনার ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় জেলও খেটেছেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাব খাটিয়ে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের জমি দখলের পাশাপাশি সম্প্রতি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের আশপাশে গেট নির্মাণ করে অন্যদের চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির কেন এমন বিতর্কিত জায়গা ভাড়া নিয়েছেন—সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, বিতর্কিত জায়গাটি ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে নাজিম উদ্দীন রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় বা ‘শেল্টার’ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তাঁর ভাষ্য, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিকও চাঁদা দাবির কথা বলেননি। বরং জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আইনগত প্রক্রিয়ায় ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটিতে বিএনপির নাম জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, জমির দখলকারী বা দখল পুনরুদ্ধারের সঙ্গে জড়িত কোনো পক্ষই বিএনপির নয়। তাই দলটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোলা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং স্টুডিওটি মূল লক্ষ্য ছিল না। বিস্তারিত তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাশেদ খান বলেন, ঘটনার সঙ্গে সামনে-পেছনে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা যারা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আ.দৈ/আরএস




















