ডেঙ্গু ও অবৈধ দখল মুক্ত ফুটপাত গড়ার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের
মিরপুর-১০ এ ফুটপাতের শতাধিক দোকান- স্থাপনা উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রশাসকের ঘোষণ অনুযায়ী আজ দুপুরে মিরপুর-১০ এর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলেছে।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের নির্দেশনার আলোকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের শতাধিক অবৈধ দোকান- স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ওই এলাকায় শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিলেন,সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল করিম, ডিএনসিসিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সভাপতি ও একমাত্র উপদেষ্টা মো. সিদ্দিকুন রহমান,স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অঞ্চল-৪ এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এরআগে আজ শনিবার ডিএনসিসির উদ্যোগ মিরপুর শেওড়া পাড়ায় ‘ডেঙ্গু লার্ভা ধ্বংস ও প্রতিরোধে বিশেষ পরিছন্ন সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে এক পথ সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় ডিএনসিসির প্রশাসক ঘোষণা দেন,নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা উত্তর সিটিকে ‘ডেঙ্গু মুক্ত ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দোকান- স্থাপনা’ উচ্ছেদ করা হবে। কারণ ফুটপাত জনগণের চলাচলে জন্য পরিস্কার করা হবে।
অজ সভা থেকে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে মেট্রোলের নিচে দোকানদারদের ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার লক্ষ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ বিন স্থাপন করা হয় এবং সবাইকে এই বিনে ময়লা ফেলার অনুরোধ করা হয়।
প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটিকে ডেঙ্গু মুক্ত গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও জনগণকে সচেতন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন,নগরীতে বিভিন্ন বাসা বাড়ি , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যিক ও প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা সন্ধানে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে সেখানে জরিমানা করা হচ্ছে।
প্রশাসক জানান ,ঢাকা উত্তরের নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু মুক্ত নগর গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি খোলা চিঠি লেখা হয়েছে। চিঠিটি স্থানীয় প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে জনগণ হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণ সচেতন ও সহযোগিতা করার সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু মুক্তনগর গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সিটি কর্পোরেশন একার পক্ষে ডেঙ্গু মুক্তনগর গড়ে তোলার সম্ভব না। জনগণকে সহযোগিতা নিয়েই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে ডেঙ্গু মুক্ত করা বলে জানান প্রশাসক।
তিনি মেট্রো রেলের পিলারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদদের পোস্টার ও লিফলেট দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন , নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় যা যা করণীয় আমরা তাই করব। আগামী ৭২ ঘন্টার ভিতরে মেট্রোলের সকল পিলারের গায়ে সকল ধরনের অবৈধ পোস্টার উচ্ছেদের নির্দেশনা দেন।
প্রশাসক জানান, ফুটপাত জনগণের অধিকার এবং ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে জনগণ যাতায়াত করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম । কিন্তু এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে ঘটিয়ে যারা ফুটপাতে দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাদেরকে আমরা প্রথমে নোটিশ দিয়েছিলাম কিন্তু তারা নোটিশে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
ওয়েস্ট বিন উদ্বোধন শেষে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে মিরপুর ১০ ফলপট্টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং আবারও যদি বসে তাহলে উচ্ছেদ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
আ. দৈ./একে




















