বিদ্যুৎ প্রকৌশলী রফিকের মাঝে কি ‘মধু ও যাদু’ পেলো প্রশাসক মিলটন
ডিএনসিসিতে আইন-বিধি লঙ্ঘন করে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের তৎপরতা চলছে
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের সিন্ডিকেটের অস্বাভাবিক ক্ষমতাধর ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামকে চাকরির মেয়াদ শেষ হবার পর আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে স্বপদে বহাল রাখার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের ‘আইন ও বিধি’ লঙ্ঘন করে নানা অযুহাতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কোটি কোটি টাকা লোপাটকারী ডিএনসিসির সাবেক মেয়র মো.আতিকুল ইসলাম ও সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সিন্ডিকেটের শক্তিশালী সদস্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামকে ধরে রাখতে নানা ফন্দি ফিকির শুরু হয়েছে।
এসব বিষয়ে প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে, এই প্রতিনিধিকে তিনি সাবজবাব দেন। এসব তিনি কিছুই জানেন না।
ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,আগামী ৩০ সেপ্টেম্ব চাকরি থেকে অবসরে (পিআরএল) যাচ্ছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম। তাকে স্বপদে বহাল করার জন্য তড়িগড়ি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন নিয়ে বেশ তৎপরতা নেমেছেন ডিএনসিসির সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান। এখন প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামের মাঝে এমন কি ‘মধু ও যাদু’ পেয়েছেন বর্তমান প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
অথচ ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগে প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ্য অতিরিক্ত দামে ও নিম্ম মানের ‘ওয়াকিটকি ক্রয়’ ক্ষমতার অপব্যহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শেষের দিকে। আলোচিত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ আগষ্ট ‘ওয়াকিটকি ক্রয়ে’ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছিল দুদক।
এছাড়াও এলিডি লাইট ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযো অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য গাড়ি যন্ত্রাতি ক্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দুদকে। এছাড়া প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গোপনে অনুসন্ধান চলছে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দু'জন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব সংক্রান্ত জারি করা স্মারক নং-০০.০০.০০০০.১৭০. ৬০.০১৫.১৯.১৬৭ এবং ২০২০ সালের ০৯ নভেম্বর স্মারক নং-৪৬,০০,০০০০,০৭০ ,১১,০০১,২০,১১৭৬, মূলে উল্লেখ করা হয়েছে,উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশ ক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত দু'জন কর্মকর্তা জনাব মোঃ লিয়াকত আলী মিয়া ও জনাব মো: মোহসীন আলীকে
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে নিম্নোক্ত মতামত প্রদান করা হলো:
(ক) সিটি কর্পোরেশনের জন্য পৃথক আইন ও নিয়োগ বিধিমালা বিদ্যমান থাকায় উক্ত আইন ও নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের চাকরি নিয়ন্ত্রিত হবে; (খ) স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ না থাকায় কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অবসর-উত্তর ছুটির পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ নেই; এবং (গ) সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ১(৩) (ক) ধারা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা এতে নিয়োজিত ব্যক্তিপণের জন্য এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে না।
ফলে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য উক্ত আইন প্রযোজ্য নয়। এতে স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নাসরিন সুলতানা) ২০২০ সালে ১১ নভেম্বর।
আ. দৈ./একে




















