দুদকের জনপ্রিয় ফাঁদ অভিযান শুরু হয়েছে
চট্টগ্রামে ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে সাব-রেজিস্ট্রারসহ ৩ জন আটক
আবুল কাশেম:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অত্যন্ত জনপ্রিয় ফাঁদ অভিযান পুনরায় শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরকারি-আধা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদস্থ কর্মকর্তা এবং তাদের সিন্ডিকেট সেবা গ্রহীতা লোকজনকে নানা কৌশলে জিম্মি করে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন অব্যাহত রেখেছে।
এমনই অভিযোগে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টম্বর) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং অফিসের উমেদার রূপন দাশকে নগদ ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক করেছে দুদকের কর্মকর্তারা। আজকের দৈনিক পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো.তানজির আহমেদ।
জানা যায়, সারাদেশেই ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, ভবন নির্মাণে নকশা ও প্ল্যান অনুমোদন, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস এবং সেবা খাত ওয়াসা, ডেসা, ডেস্কাসহ আরো অনেক দপ্তরে ঘুষ, দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বলতে গেলে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম হয়রানীর যেন নেই। তবে টানা প্রায় ৬ মাসের বেশি সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার দায়িত্বে না থাকায় উক্ত সংস্থার ফাঁদ অভিযান এবং এনফোর্সমেন্ট অভিযান বন্ধ ছিল।
তবে দেরিতে হলেও দুদকের ফাঁদ অভিযান এবং এনফোর্সমেন্ট অভিযান পুনরায় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুদকের পক্ষ থেকে বেশ কয়টি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এখন প্রতিদিন সরকারি ও আধা সরকারি একাধিক দপ্তরে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আরো বেশ কিছু দপ্তরে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টম্বর) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং অফিসের উমেদার রূপন দাশকে নগদ ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক করেছে দুদকের কর্মকর্তারা। আজকের দৈনিক পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো.তানজির আহমেদ।
তিনি আরো জানান, আজ চট্টগ্রামের একজন আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রির জন্য পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দাখিল করেন। দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও সাব-রেজিস্ট্রার কাজটি আটকে রাখেন।
তাদের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান ও হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম দলিল দুটি রেজিস্ট্রির জন্য ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী দুদকের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ করেন। তার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদন ক্রমে আজ ২২ সেপ্টেম্বর দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় -১ ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করেছে।
দুদক কর্মকর্তারা অভিযানকালে পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং অফিসের উমেদার রূপন দাশকে ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক করেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর অভিযুক্তদেরকে চ্ট্টগ্রাম বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পাউবো ও জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে অভিযান :
এদিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করছে দুদক। জনসংযোগ মো.তানজির আহমেদ আরো জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয় ও জামালপুর এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনাকারী টিমগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে এবং কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত বিধান উপেক্ষা করে নিজ বাবার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই শতভাগ বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পান দুদক কর্মকর্তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি দল নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে অভিযান পরিচালনা করছে।
অপরদিকে, জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা দিতে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জামালপুরের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম পাসপোর্ট অফিসে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়।
আ. দৈ./একে




















