র্যাবের নাম বদলে এসআরবি করলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না: জামায়াত এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন বলে সংসদে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। ২০১৯ সালেও তিনি র্যাবকে ‘ক্যান্সার’ আখ্যা দিয়ে একই দাবি করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্যে নাজিবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছেও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও বাহিনীটি বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
র্যাব বিলুপ্ত করে প্রস্তাবিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। নাজিবুর রহমানের অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের জনবল, কার্যালয়, সম্পদ, ক্ষমতা, নথিপত্র ও দায়-দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শুধু নাম পরিবর্তন হচ্ছে, কাঠামোগত সংস্কার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। শুধু নাম বদল হলে গুমসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা ও তদন্তও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এসআরবির জবাবদিহি ব্যবস্থার সমালোচনা করে নাজিবুর রহমান বলেন, বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের কমিটিতে এসআরবির কর্মকর্তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তার মতে, এতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতি, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
তবে বিশেষায়িত ও দক্ষ বাহিনীর বিরোধিতা করছেন না জানিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত না করে শুধু নাম পরিবর্তন করলে সংস্কারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলোও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আ.দৈ/এসআর




















