বিশ্বজয়ী হাফেজদের সম্মানিত করলে দেশও সম্মানিত হবে: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। কারণ বিশ্বজয়ী এই হাফেজে কোরআনদের সম্মানিত করলে বাংলা দেশও সম্মানিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ বিজয়ী’ বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ক্রীড়া সাংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরলে তাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের সম্মানিত করার হয়। কিন্তু কোরআনের হাফেজরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে। আর একটা ভালো দেশ গড়তে হলে ভালো নাগরিক আমাদের লাগবে। কিন্তু আমাদের ইসলামী শিক্ষাটা অনেকটা উপেক্ষিত। আমরা এই সংসদে কথা বলেছি, আরো বলব এবং আমরা বিশ্বাস করি এ দাবি একদিন আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককেও সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি সাংবাদিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি।
শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে একটি মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের কর্মসূচি কোন দল এবং গোষ্ঠীর জন্য নয়। আমাদের কর্মসূচি ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে যে সমাজটা আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের আগস্টের পরে সেই সমাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বলেই আমাদের পেরেশানির জায়গা থেকে জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের এই কর্মসূচি।
এ সময় বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমরা মক্কায় সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্মান পেয়েছি। কিন্তু এদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা কোন সংবর্ধনা পাইনি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেখিয়েছেন, এজন্য আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। জাকারিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা রাষ্ট্রীয় কোন সহযোগিতা চাইনি, পাইওনি। তবে আগামীতে যত হাফেজ বিশ্বজয় করবে, তাদের যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান দেয়া হয়।
এদিকে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ‘বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজদের’ সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বরেছেন,বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজদের সম্মানিত করলে দেশ সম্মানিত হবে। আমি এই দাবিটি আবার জানালাম। আশাকরি সরকার এটা করবে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়াই শুধু শেষ নয়, বরঞ্চ আরো যত ধরনের সম্মানিত করার সুযোগ আছে সেটাও যেন করা হয়, এটাও আমাদের দাবি। আমরা বিরোধী দল হিসাবে বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই সুযোগটা আজকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। আমরা আশা করছি অচিরেই এযাবতকালে যত হাফেজে কোরআন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিজয়ী হয়েছেন তাদের জন্য একটা সংবর্ধনার ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। এই পতাকা এরা ছাড়াও এর আগে এবং পরে বিভিন্নভাবে বিশ্বমঞ্চে দেখা গিয়েছে কিন্তু এটা তার ব্যতিক্রম যে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম জায়গায় এটা দেখা গিয়েছে।
আ. দৈ./একে




















