১ম ডোজ ২২ আগস্ট, ২য় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর
সারাদেশে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, "পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সকল টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।" সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএসসিসির নগর ভবনে অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও-এর প্রতিনিধি ডাঃ আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মোঃ হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ মো. জাহিদ রায়হান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজই গ্রহণ করা জরুরি। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ব্যতীত) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে সর্বমোট ৫১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।
ডিএসসিসির অধীনস্থ লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে এই টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ডিএনসিসির শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, "পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
উল্লেখ্য, Vibrio cholerae নামক জীবাণুবাহিত কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয় এবং রোগের তীব্রতা হ্রাস করে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আ.দৈ./ একে




















